প্রোটিন বের করে নেওয়ার পর ফসলের বাকি অংশের মূল্যবান ব্যবহার খুঁজে না পেলে উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্য কোম্পানিগুলোর লাভ করা কঠিন। ফিনল্যান্ডের VTT Technical Research Centre (ভিটিটি কারিগরি গবেষণা কেন্দ্র)-এর নেতৃত্বে তিন বছরের এক গবেষণা প্রকল্প এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, জানিয়েছে গ্রিন কুইন।
বিজনেস ফিনল্যান্ডের ৩০ লাখ ইউরো অনুদানে চলা 'রিথিংক' প্রকল্পে ভিটিটির সঙ্গে ছিল সাতটি ফিনিশ খাদ্য কোম্পানি: আনোরা, আপেতিত, ফাজের, হেলসিংগিন মিলু, রাইসিও, ভালিও ও ভাইকিং মল্ট। গত মাসে কয়েকটি নতুন উপাদান প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি তৈরির মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি শেষ হয়।
উদ্ভিদ উপাদান তৈরিতে ওট ও ফাবা শিমের মতো ফসল প্রক্রিয়া করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রচলিত ব্যবসা শুধু প্রোটিনে মনোযোগ দেয়, ফলে ফসলের বড় অংশের মূল্য অব্যবহৃত থাকে: মাংসের বিকল্প বানাতে মটর থেকে প্রোটিন নেওয়ার পর শর্করাসমৃদ্ধ বাকি অংশ প্রায়ই কম দামের পশুখাদ্য হয়ে যায়। প্রকল্পপ্রধান Emilia Nordlund (এমিলিয়া নর্ডলুন্ড) বলেন, শর্করাসমৃদ্ধ অংশই কাঁচামালের সবচেয়ে বড় ভাগ, তাই এর উচ্চমূল্যের ব্যবহার খোঁজা সবচেয়ে জরুরি; খাদ্যের বাইরে প্রসাধনীতেও তা হতে পারে।
ফলাফলের মধ্যে আছে ওটের খাদ্যআঁশ বিটা-গ্লুকান ঘন করার নতুন পদ্ধতির পেটেন্ট, যাতে পানীয়তে আঁশ মেশালেও তা ঘন হয়ে যায় না। শিম জাতীয় উপাদানের অপ্রিয় গন্ধ ঠেকাতে প্রোটিন আলাদা করার আগে নতুন একটি প্রক্রিয়াও উদ্ভাবন করেছেন গবেষকেরা। ভাইকিং মল্ট ও ভালিও মিলে অঙ্কুরিত ফাবা শিমের প্রোটিন দানা থেকে উদ্ভিদভিত্তিক ও মিশ্র মাংসপণ্যের উপাদান তৈরি করেছে।
প্রকল্পটি ভিটিটির সহপ্রতিষ্ঠান হ্যাপি প্ল্যান্ট প্রোটিনের প্রযুক্তিও এগিয়ে নিয়েছে, যা এক ধাপের শুষ্ক প্রক্রিয়ায় ফাবা শিমের প্রোটিন ও শর্করা আলাদা করে টেক্সচার দেয়। প্রতিষ্ঠানটি এ বছর লাটভিয়ায় কারখানা গড়তে ৭০ লাখ ডলার তুলেছে এবং নেদারল্যান্ডসের একটি শিল্প স্থাপনায় প্রক্রিয়াটি চালুর চুক্তি করেছে।
গবেষকদের মতে, প্রবৃদ্ধির জন্য কৃষক, উপাদান প্রস্তুতকারী, খাদ্য কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা দরকার, যাতে কাঁচামালের জোগান, মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রি এক শৃঙ্খল হিসেবে পরিকল্পনা করা যায়। নর্ডলুন্ড জানান, ফিনল্যান্ডে প্রচুর সক্রিয় কৃষক এবং আঞ্চলিকভাবে কাঁচামাল উৎপাদনের সক্ষমতা আছে।
প্রতিবেদনটি গ্রিন কুইনের জন্য লিখেছেন অনয় মৃদুল।
ছবি: Htm / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)