কৃষকের জন্য কম দামে সার নিশ্চিত করতে গত ১৬ বছরে সরকার কৃষিখাতে প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে, যার প্রায় ৯৮ শতাংশই সারে। চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরেও সার ও কৃষি প্রণোদনায় ১৭ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। কিন্তু সেই ভর্তুকির সার পরিবহনের আড়ালে গায়েব হওয়া, কালোবাজারে বিক্রি ও মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সর্বশেষ মাত্র দুই দিনে চট্টগ্রাম উপকূলে ৭৮ টন ইউরিয়া জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোররাতে মীরসরাইয়ের ইছাখালী ঘাটে ট্রাক থেকে ফিশিং বোটে তোলার সময় প্রায় ৩৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার ৯৬০ বস্তা (৪৮ টন) এবং আগের দিন বৃহস্পতিবার সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাটে কার্গো বোটে তোলার সময় প্রায় ২১ লাখ টাকার ৬০০ বস্তা (৩০ টন) ইউরিয়া ধরা পড়ে। দুই অভিযানে ৫টি ট্রাক, ২টি নৌকা ও ৫ জন আটক হয়।
সরকারি সার পরিবহনে বড় অনিয়মের একাধিক ঘটনা তদন্ত ও মামলার পর্যায়ে রয়েছে। বিসিআইসির তদন্তে ঢাকার পোটন ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে ৭২ হাজার টন সরকারি সার গুদামে না পৌঁছানোর অভিযোগে ৫৮২ কোটি টাকা ক্ষতির কথা এসেছে; বিসিআইসি ১,১৬৩ কোটি টাকা আদায়ের মামলা করেছে। চট্টগ্রামের নবাব অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, কাতার ও সৌদি আরব থেকে আমদানি করা ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৫৬ টন ইউরিয়ার মধ্যে ৬৬ হাজার ৮৭৪ টন (আনুমানিক ৬১৯ কোটি টাকার বেশি) বাফার গুদামে পৌঁছায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দর থেকে সার বুঝে নিয়ে গুদামে না পৌঁছে খোলাবাজারে বিক্রি, ভরা মৌসুমে বেশি দামে বেচে পরে কম দামে কিনে গুদামে জমা দেওয়া—এমন কৌশলে ভর্তুকির সুফল প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছায়নি। মাঠপর্যায়ে সার না পাওয়া, বেশি দামে বিক্রি, মজুত ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগও উঠছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে চলতি অর্থবছরে সব ধরনের সারের চাহিদা প্রায় ৬৭ লাখ ৭০ হাজার টন—ইউরিয়া ২৬ লাখ ২০ হাজার, ডিএপি ১৩ লাখ ৫০ হাজার, এমওপি ৯ লাখ ৭০ হাজার ও টিএসপি ৯ লাখ ১৫ হাজার টনের বেশি। ইউরিয়ার বড় চাহিদা ডিসেম্বর–মার্চের বোরো মৌসুমে, প্রায় ১৪ লাখ টন; ১৩ সেপ্টেম্বর ইউরিয়ার মজুত ছিল প্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার টন। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহপথে ঝুঁকির কারণে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই থেকে বিকল্প উৎসে ইউরিয়া সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বশীল সূত্রগুলো অবশ্য বলছে, কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বিসিআইসি চেয়ারম্যান ১৪ সেপ্টেম্বর বাফার গুদাম পরিদর্শন করে নভেম্বর পর্যন্ত ইউরিয়ার মজুত যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন; তিনটি দেশীয় কারখানায় দিনে প্রায় ৫ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ৪৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাখ ২০ হাজার টন নন-ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, আর ২৩ সেপ্টেম্বর কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ ৫৫ হাজার টন এমওপি ও ডিএপি কেনার অনুমোদন হয়েছে।
প্রতিবেদন: দৈনিক আজাদী, চট্টগ্রাম।
সূত্র: দৈনিক আজাদী





মন্তব্য
(০)