সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮৪%বাতাস কিমি/ঘ

সার-বীজে নাভিশ্বাস সবজি চাষিদের

বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির খড়ক মাথায় নিয়েই আগাম শীতকালীন সবজি আবাদ শুরু করেছেন দেশের অন্যতম সবজি উৎপাদনকারী এলাকা পাবনার ঈশ্বরদীর কৃষকরা। শিম, মুলা, গাজর ও ফুলকপির পাশাপাশি এখানকার কৃষকরা ওলকপি, ঢ্যাঁড়স, বাঁধাকপি, বেগুন, ধনিয়ার পাতা, লাউসহ বিভিন্ন সবজিসহ চাষাবাদ শুরু করেছেন।

শাকসবজি

বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির খড়ক মাথায় নিয়েই আগাম শীতকালীন সবজি আবাদ শুরু করেছেন দেশের অন্যতম সবজি উৎপাদনকারী এলাকা পাবনার ঈশ্বরদীর কৃষকরা। শিম, মুলা, গাজর ও ফুলকপির পাশাপাশি এখানকার কৃষকরা ওলকপি, ঢ্যাঁড়স, বাঁধাকপি, বেগুন, ধনিয়ার পাতা, লাউসহ বিভিন্ন সবজিসহ চাষাবাদ শুরু করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ৭০৮৮ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় শিম। প্রায় ১৩০০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়। এছাড়াও ফুলকপি ৯০০ হেক্টর, মুলা ৯৪৫ হেক্টর, গাজর ৮৯০ হেক্টর, বেগুন ৪০০ হেক্টর, বাঁধাকপি ২১৫ হেক্টর ও ঢ্যাঁড়স ৩৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। শীতকালীন সবজি হিসেবে এরই মধ্যে ওলকপি, লাউ, ধনিয়াপাতা, লাল শাক, পালং শাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ শুধু সবজির আবাদ। যেদিকে তাকানো যায় চোখে পড়বে শুধু সবজির ক্ষেত। চাষিরা সবজির চারা রোপন, পরিচর্যা ও সেচের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকরা জানান, বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সবজি আবাদে। অনাবৃষ্টির কারণে ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিনে সবজি ক্ষেতে সেচ দিতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়া ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে এবারের সবজি আবাদে খরচ দ্বিগুন বেড়ে যেতে পারে। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে সবজি চাষিদের লাভের মুখ দেখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।

সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী গ্রামের সবজি চাষি জিয়া মন্ডল জাগো নিউজকে জানান, এক বিঘা জমিতে গত বছর গাজর চাষে খরচ হয়েছিল ৬০ হাজার, এবার খরচ হবে ৯০ হাজার টাকা। এককেজি গাজরের বীজের দাম গত বছর ছিল ১৬ হাজার ৫শ টাকা এবার ২১ হাজার ৫শ টাকা।

তিনি বলেন, গত বছর গাজর আবাদে ইউরিয়া সার ছিল ৮০০ টাকা বস্তা (৫০ কেজি)। এবার সরকারি দাম ১১০০ টাকা হলেও ডিলাররা দাম নিচ্ছেন ১৩০০ টাকা, টিএসপি গত বছর ৯০০ টাকা বস্তা থাকলেও এবার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫০ টাকা, এমওপি সার ১০০০ টাকা, ডিএপি ১২০০ টাকা বস্তা। ডিলাররা সারের সংকট দেখিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কৃষকদের সার কিনতে বাধ্য করছেন।

এছাড়াও এবার অনাবৃষ্টির কারণে সেচের জন্য বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে এক বিঘা জমিতে গাজর চাষে যে খরচ হবে। উৎপাদিত গাজর বিক্রি করে সে খরচ উঠবে কিনা সন্দেহ আছে।

নওদাপাড়া গ্রামের সবজি চাষি হাজী হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতি বছর ২০ থেকে ২৩ বিঘা জমিতে গাজর, ফুলকপি, পাতা কপিসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ করি। এবারও আগাম ফুলকপি, মুলা ও গাজরের চাষ করেছি। সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম যেভাবে বেড়েছে এতে ফসল ফলিয়ে কৃষকদের লাভের কোনো সম্ভাবনা নেই। নিজের জমি আবাদ করতেই হিমশিম খাচ্ছি। যারা ৬০ হাজার টাকা বিঘা বছর চুক্তিতে খাজনা নিয়ে আবাদ করছে তাদের বিন্দুমাত্র লাভের সম্ভাবনা নেই।

ভাড়ইমারি গ্রামের সবজিচাষি আব্দুস সাত্তার জাগো নিউজকে জানান, সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে টার্কিস হাইব্রিড জাতের আগাম গাজরের আবাদ করেছি। এক বিঘা জমি আবাদ করতে ৭০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। যারা জমি খাজনা নিয়ে আবাদ করছে তাদের খরচ ৯০ হাজার। অথচ এক বিঘা জমির গাজর ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে বলে মনে হয় না।

তিনি বলেন, সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বাড়ার পাশাপাশি অনাবৃষ্টির কারণে সেচের জন্য বাড়তি খরচ হচ্ছে। সার নিয়ে ডিলাররা লুকোচুরি শুরু করেছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ডিলাররা সার দিচ্ছে না। তারা বস্তা প্রতি দুই থেকে তিনশ টাকা বেশি নিচ্ছে। ডিলারদের কারসাজি দেখার কেউ নেই।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতি পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব জাগো নিউজকে বলেন, সার, কীটনাশক, বীজ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় সবজি উৎপাদনে খরচ বাড়বে। উৎপাদিত সবজির বাজারদর না বাড়ালে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে তারা চাষাবাদে আগ্রহ হারাবে। তাই কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের বাজারদর নির্ধারণ করে দিতে হবে।

দাশুড়িয়া ইউনিয়নের বিএসআইসি অনুমোদিত সার ডিলার হাফিজুর অ্যান্ড ব্রাদাসের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যেই এখানে সার বিক্রি হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সবসময়ই সার বিক্রি তদারকি করেন।

বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জাগো নিউজকে জানান, ডিলারদের সার বিক্রি সবসময় মনিটরিং করছে কৃষি অফিস। প্রত্যেকটা সার ডিলারদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন উপ-সহাকারী কর্মকর্তারা। কোথাও কোনো অনিয়ম যেন না হয় সেজন্য সতর্ক রয়েছি। সারের অনিয়ম ঠেকাতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে যারা লাভের আশায় অনিয়ম করার চেষ্টা করবে। তাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে এবং কৃষকদের সচেতন হতে হবে। কেউ সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে সঙ্গে সঙ্গে কৃষি অফিসে জানাতে হবে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

পদ্মার পানিতে রাজশাহীর তিন উপজেলায় ৩০৯ হেক্টরের ফসল প্লাবিত, চরের সবজি পচে গেছে

উজানের পানিতে পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ীর চরে ৩০৯ দশমিক ৫৯ হেক্টর ফসলি জমি ডুবেছে—সবজি ৪৫, মাষকলাই ৮৫, হলুদ ১০২ হেক্টরসহ; কসবা ও আলিমগঞ্জের কৃষকদের পটোল, শসা, করলা ও আগাম কপি পচে গেছে, কৃষি বিভাগ বলছে আল উঁচু করে প্রায় ৬০ শতাংশ ফসল রক্ষা করা গেছে।

প্রথম আলো২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

তিন মাসে ভারতে পেঁয়াজের খুচরা দাম ৮২ শতাংশ বেড়ে কেজি ৫৩.৭৮ রুপি, জোগানে ঘাটতি

সরকারি তথ্যে ১ জুনের ২৯.৫০ রুপি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরে গড় খুচরা দাম ৫৩.৭৮ রুপি, পাইকারি ২২.৬০ থেকে ৪৫.৬৮ রুপি; মহারাষ্ট্রের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজে ঘাটতি ও নতুন খরিফ ফসলে দেরি কারণ, বাফার স্টক থেকে ৩৫ রুপিতে বিক্রি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছে সরকার।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
অন্যান্য

মার্চ মাসে কৃষিতে করণীয় কাজসমূহ

বোরোতে পানি ও ব্রাউন প্ল্যান্ট হপার, গ্রীষ্মের ধানের বীজতলা, গম কাটা, মুগ-মাসকলাই বপন, সূর্যমুখী-সয়াবিন, গ্রীষ্মের সবজি, আম-লিচুর মুকুল, পুকুর ও গবাদি পশু — মার্চে কৃষিতে করণীয়।

তানিয়া চৌধুরী২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()