সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩৪°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৫৯%বাতাস কিমি/ঘ

ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা, থমকে গেছে অগ্রিম বাগান বিক্রি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আম চাষি আরিফুল ইসলাম (৫০)। গত ২৫ বছর ধরে তিনি আম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সিজনে গাছে আম ধরিয়ে অগ্রিম বাগান বিক্রি করেন অন্য ক্রেতাদের কাছে।

ফল

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আম চাষি আরিফুল ইসলাম (৫০)। গত ২৫ বছর ধরে তিনি আম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সিজনে গাছে আম ধরিয়ে অগ্রিম বাগান বিক্রি করেন অন্য ক্রেতাদের কাছে।

কিন্তু এবার ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও বাগান বিক্রি করতে পারছেন না তিনি। কারণ বাগানে আসেনি আশানুরূপ আমের গুটি। এতে হতাশায় দিন কাটছে তার। শুধু আরিফুল ইসলাম নয় জেলার অধিকাংশ আম চাষির অবস্থা এমন।

আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজে বলেন, দুই যুগের বেশি সময় ধরে আম ব্যবসা করে আসছি। প্রতিবছর গাছে আম ধরিয়ে এসময়ে বাগান বিক্রি করি। কিন্তু এবার গাছে নেই পর্যাপ্ত আমের গুটি। তাই ক্রেতাও নেই।

আর এবার বেড়েছে কীটনাশক-বালাইনাশক খরচ। আম যদি না হয় এসব কৃষি পণ্যের টাকা আমি দিব কোথায় থেকে। এমনকি যে শ্রমিক আমরা আগে পেতাম ২০০ টাকায় টাকায়। এখন শ্রমিকের মজুরি ৪০০ টাকা। এতে গত বছরগুলোর ছেলে এবার উৎপাদন খরচ বাড়বে দ্বিগুণ।

তিনি বলেন, বছরে দুইবার প্রথা হিসেবে আম গাছ বিক্রি হয়। একবার এসময়ে আম গাছে ধরিয়ে। আর আরেকবার আম নামিয়ে নিয়ে আগামী বছরের জন্য অগ্রিম বাগান বিক্রি করা যায়। কিন্তু এখন আর কোনটিই হচ্ছে না।

পুকুরিয়া এলাকার আম চাষি সুজা মিয়া বলেন, আমার খিরসাপাত, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি, আশ্বিনাসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় সাতবিঘা জমিতে আম বাগান রয়েছে। প্রতিবছর আম ফলিয়ে গাছেই বিক্রি করি। কিন্তু এবার বাগানে নেই পর্যাপ্ত আমের গুটি। এতে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও পাচ্ছি না ক্রেতা।

কানসাট আব্বাস বাজার এলাকার বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন। তিনি জানান, জন্মসূত্রে ১৫ বিঘা আম বাগান পেয়েছেন। একটি মাত্র সন্তান বিদেশে থাকে। এজন্য শ্রমিকদের দিয়ে গাছে আম ধরিয়ে এসময় অন্য ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু এবার ক্রেতা পাচ্ছেন না তিনি। এতে অযত্নে পড়ে আছে তার ১৫ বিঘা আম বাগান।

শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের আম বাগান মালিক রাকিমুল ইসলাম বলেন, চাকরির সুবাদে আমরা পরিবার নিয়ে এক যুগ ধরে রাজশাহীতে বসবাস করি। জন্মসূত্রে পাওয়া এলাকায় ১০ বিঘার বেশি জমিতে আম বাগান রয়েছে। এ আম গাছগুলোতে শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচর্যা কতে আম ধরিয়ে এসময় বিক্রি করি। আমাদের বাড়িতে ক্রেতারা এসে কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এবার কোনো ক্রেতা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। শুনছি বাগানে নাকি আম নেই।

শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাগানে কম মুকুল এসেছিল। আর ফুটন্ত মুকুলের সময়ে বৃষ্টি হয়েছে। এতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলায় এবার ৭০ শতাংশ গাছেই আম নেই। এজন্য ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে আম চাষিদের যদি প্রণোদনার আওতায় আনা যায় তাহলে কিছুটা হলেও বেঁচে যাবে আম চাষিরা। অন্যথায় আম ব্যবসায়ীয় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পলাশ সরকার বলেন, এবার যে বিরূপ আবহাওয়া চলছে, এতে আমের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। এমনকি সামনে আরও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আছে। যেমন কাল বৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি এসব হতে পারে। এমনটা হলে আমের উৎপাদন আরও কমে যাবে। সব মিলিয়ে বলা যায় আমরা যে আম উৎপাদনের আশা করেছিলাম তা এবার নাও হতে পারে।

তাই চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে আগের পুরনো জাতগুলো পরিবর্তন করে নতুন জাতে রূপান্তরিত করার। কারণ আমরা কয়েক বছর থেকেই দেখছি আগের বড় গাছগুলোতে আম না হলেও নাবি জাতের ছোট গাছগুলোতে আম আসছে।

সোহান মাহমুদ/আরএইচ/জিকেএস

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

পুকুরপাড়ের মাচায় হলুদ-কালো তরমুজ: সোনারগাঁয়ে এক লাখ খরচে চার লাখ লাভের আশা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার গৌরবরদী গ্রামের কৃষক রমজান আলী সাত বিঘা জমিতে মাচা তৈরি করে অসময়ের কালাচান ও তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষ করছেন; পুকুরে মাছ আর পাড়ে করলা-লাউ চাষ মিলিয়ে মাসে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় তাঁর।

কৃষি সময়২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফল

তাপপ্রবাহ-খরায় ফ্রান্সের ওয়াইন উৎপাদন ৭০ বছরের সর্বনিম্নের পথে, বোর্দোয় উঠছে আঙুরবাগান

ফরাসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে টানা তৃতীয় বছর উৎপাদন কমছে; বারগান্ডিতে স্বাভাবিকের অর্ধেক ফলন, ১৪ আগস্টে ইতিহাসের আগাম আঙুর সংগ্রহ, আর চাহিদা কমায় হেক্টরপ্রতি ৪ হাজার ইউরো সহায়তায় বাগান তুলে ফেলছেন চাষিরা।

অর্থসূচক২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফল

সেপ্টেম্বরেও গাছে আম: সাপাহারের ৭৫ বিঘার বাগানে গৌরমতি-কাটিমনে ৬৩ লাখ টাকার আশা

নওগাঁর সাপাহারে সোহেল রানার বরেন্দ্র এগ্রো বাগানে ১,৮০০ গৌরমতি ও ১,৭০০ কাটিমন গাছে অসময়ের আম ঝুলছে; মণপ্রতি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি সময়২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()