মুনাফা কম, খামারের আয়ও কমেছে, তবে কৃষি অর্থনীতি চক্রাকারে চলে এবং আশার কারণও আছে—নিউ অরলিন্সে ১৫তম উইমেন ইন অ্যাগ্রিবিজনেস সামিটে ৭০০-র বেশি অংশগ্রহণকারীকে এ কথা বলেছেন কৃষিঋণদাতা কোব্যাংকের কৃষি সরবরাহ ও জৈব জ্বালানি বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ জ্যাকি ফাটকা। খবরটি দিয়েছে সাকসেসফুল ফার্মিং।
প্রথম শক্তি সংকুচিত মুনাফা। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে ফাটকা জানান, ২০১৮ সালের কৃষি বিলের পর উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৪৪ শতাংশ, কৃষিঋণ ৫০ শতাংশ আর কৃষিখাতের সুদের হার ৬৩ শতাংশ। এ বছর নিট খামার আয় ৫.৫ শতাংশ ও নিট নগদ খামার আয় ২.৫ শতাংশ কমবে বলে পূর্বাভাস, যদিও মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ে দুটিই ২০ বছরের গড়ের ওপরে। সার ও জ্বালানির উঁচু দামে বেশির ভাগ ফসলে এখনো লাভ-ক্ষতির সমতা আসেনি, আর ২০২৬ সালে সরকারি অর্থ নিট খামার আয়ের এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছাতে পারে।
দ্বিতীয় শক্তি সম্পদের মূল্য। ২০১৮ সালের পর জমির দাম বেড়েছে ৪৬ শতাংশ, আর এই জমিই পরিচালন ঋণের জামানত। ফাটকার মতে, জমির এই দামই আশির দশকের কৃষি সংকটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাচ্ছে; তেমন সংকটের জন্য জমি ও যন্ত্রের দাম ২০ শতাংশ পড়তে হবে, যা তাঁরা আশা করছেন না।
তৃতীয় শক্তি প্রোটিনের চাহিদা। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি আটজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এখন জিএলপি-১ জাতীয় ওজন কমানোর ওষুধ নিচ্ছেন, ২০৩০ সালে তা চারজনে একজন হতে পারে। তাঁরা খাবারে মোট খরচ কমালেও মাংসের জন্য বেশি দাম দিতে রাজি, তাই উঁচু দামেও গরুর মাংসের চাহিদা শক্ত রয়েছে।
চতুর্থ শক্তি জনসংখ্যার পরিবর্তন। ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু দেশে জনসংখ্যা কমবে, আর চীন ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি ২৫ শতাংশ কমাতে চায়। ফাটকার মতে কানাডা ও মেক্সিকো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার, আর লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।
পঞ্চম শক্তি জৈব জ্বালানি। ফাটকা বলেন, দেশগুলো জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করায় মিশ্রণের চাহিদা এ বছর ৩০ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ বাড়তে পারে। টেকসই বিমান জ্বালানি নিয়ে আগামী দু-তিন বছরে তিনি খুব আশাবাদী নন, তবে জাহাজের জ্বালানিতে সম্ভাবনা দেখছেন: ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ১,৬০০ কোটি গ্যালন সামুদ্রিক জ্বালানি উৎপাদন করেছে, তার ৫ শতাংশ ধরতে পারলেই ইথানলের ৪০০-৫০০ কোটি গ্যালন নতুন চাহিদা তৈরি হবে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন লিসা ফাউস্ট প্রেটার।
সূত্র: Successful Farming





মন্তব্য
(০)