ইংল্যান্ডের সাসটেইনেবল ফার্মিং ইনসেনটিভ (এসএফআই) কর্মসূচির অর্থই অনেক খামারের লাভ-লোকসানের পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে—কৃষি ব্যবসা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডারসনসের সর্বশেষ পূর্বাভাসের বরাতে জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি।
অ্যান্ডারসনসের 'লোম ফার্ম' মডেল—পূর্ব ইংল্যান্ডের ৬০০ হেক্টরের দানাশস্য খামার—২০২৬ সালের ফসলে হেক্টরপ্রতি মাত্র ৪০ পাউন্ড উদ্বৃত্ত করবে, তা-ও হেক্টরপ্রতি ১২২ পাউন্ড এসএফআই অর্থ পাওয়ার পর। এই অর্থ ছাড়া সার ও জ্বালানির উঁচু দাম এবং অন্যান্য খরচে খামারটি হেক্টরে ৮৩ পাউন্ড লোকসান করত। টানা তৃতীয় খারাপ মৌসুম এটি; বর্তমান চুক্তি এই শীতে শেষ হওয়ায় ২০২৭-২৮ সালের বাজেট নির্ভর করছে নতুন এসএফআই চুক্তির ওপর। অ্যান্ডারসনসের ব্যবসা গবেষণা প্রধান রিচার্ড কিং বলেন, আবেদন সফল না হলে ২০২৭ সালে খামারের হিসাবে বড় গর্ত তৈরি হবে।
মিডল্যান্ডসের গরু, ভেড়া ও শস্যের মিশ্র 'মেডো ফার্ম' মডেলে এ বছর উৎপাদন মার্জিন হেক্টরে ৯৫ পাউন্ডে নামছে, এসএফআই ও সামান্য মৌলিক অর্থে তা দাঁড়াচ্ছে ২৭৬ পাউন্ডে। ১৩৫ হেক্টরে ২২৫টি গাভির 'ফ্রিজিয়ান ফার্ম' দুগ্ধ মডেলে এ বছর লিটারপ্রতি উৎপাদন খরচ ৪৬.৫ পেন্স, অথচ দুধ থেকে আয় ৩৭.৮ পেন্স; তবে দাম ফিরছে, আর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা শীতের আগে পশুখাদ্যের মজুত কম থাকা।
গোটা যুক্তরাজ্যে এ বছরের খরা কৃষির মোট আয় থেকে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি পাউন্ড মুছে দেবে বলে অ্যান্ডারসনসের হিসাব; ২০২৫ সালের অস্থায়ী ৮৪০ কোটি পাউন্ড থেকে তা নেমে প্রায় ৬১০ কোটি পাউন্ড হবে, আবহাওয়া ভালো থাকলে ২০২৭ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াবে। কিং বলেন, কৃষিযন্ত্রের নিলাম বাড়া খাতের পুনর্গঠনের লক্ষণ, যদিও অনেকে এখনো অলাভজনক হারে জমির খাজনা দিতে রাজি।
নীতির অনিশ্চয়তাও আছে: এসএফআই সময়সীমাবদ্ধ এবং ২০৩০ সালের পর না-ও থাকতে পারে, সরকার ২০২৭ সালের এসএফআইয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিস্তারিত জানায়নি, আর ২০২৭ সালের মাঝামাঝি ইইউর সঙ্গে সম্ভাব্য এসপিএস চুক্তি বাজারে প্রবেশাধিকারের সঙ্গে নতুন নিয়মও আনবে।
ছবি: Hugh Venables / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)