ইউরোপীয় ইউনিয়নের বন উজাড় বিধি (ইইউডিআর) দুই দফা ১২ মাস করে পেছানোর পর পরিকল্পনামতো ৩১ ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর হচ্ছে, এ নিয়ে সন্দেহ কার্যত দূর হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কৃষি, বন ও মৎস্য বিভাগের (ডিএএফএফ) রপ্তানিকারকদের জন্য আয়োজিত এক ওয়েবিনারে। খবরটি দিয়েছেন বিফ সেন্ট্রালের জন কনডন (Jon Condon)।
সমুদ্রপথে ইইউতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার গরু ও ভেড়ার মাংসের ক্ষেত্রে এর মানে, আগামী মাস থেকে পাঠানো পণ্যকে নতুন বিধি মানতে হবে।
বিধি অনুযায়ী আওতাভুক্ত সব পণ্য, দেশে উৎপাদিত হোক বা আমদানি করা, বৈধভাবে উৎপাদিত ও বন উজাড়মুক্ত হতে হবে। তালিকায় আছে গরু ও ভেড়ার মাংস, সয়াবিন, কাঠ, কফি, রাবার, কোকো, পাম তেল ও নির্দিষ্ট উপজাত; গরুর চামড়া ও প্রক্রিয়াজাত চামড়াপণ্য শুরুতে থাকলেও পরে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওয়েবিনারে বলা হয়, আগের দশকে কিছুটা কমার পর বিশ্বে বন উজাড় আবার বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে, আর এর ৯৭.১ শতাংশের কারণ স্থায়ী কৃষিজমিতে রূপান্তর।
অস্ট্রেলিয়া কম ঝুঁকির দেশ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত, তাই সেখান থেকে পণ্য সংগ্রহকারীরা সরলীকৃত যাচাই প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে পারবেন: ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, আর মূল্যায়নে ঝুঁকি না থাকলে বা নগণ্য হলে বাড়তি পদক্ষেপ লাগবে না। অস্ট্রেলিয়ার গরুর মাংসের ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত, ইইউতে রপ্তানিযোগ্য গরু সরবরাহকারী খামারগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান নির্ধারণ।
চলতি মাসের শুরুতে ব্রাজিলের গরুর মাংস আমদানিতে ইইউর নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ ছিল, ইইউতে নিষিদ্ধ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার হয় না, এমন নিশ্চয়তা দিতে ব্রাজিলের ব্যর্থতা; তবে ইউরোপের অনেক বিশ্লেষক একে বন উজাড়ের উদ্বেগের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি না থাকায় ইইউতে অস্ট্রেলিয়ার গরুর মাংস রপ্তানি সামান্য: চলতি বছর এ পর্যন্ত ৪,৪৫৭ টন, মোট রপ্তানির প্রায় আধা শতাংশ, যা গত বছরের প্রায় সমান; ২০১৫ সালে তা ছিল ২৩,৪০০ টন। ইউরোপীয় কমিশন বিধিটি নিয়ে নতুন ওয়েবসাইট ও নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
ছবি: CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Beef Central





মন্তব্য
(০)