উদ্ভিদভিত্তিক বিকল্প মাংসে যে মাংস নেই, তা প্রায় সব ব্রিটিশ ক্রেতাই বোঝেন বলে এক নতুন জরিপে উঠে এসেছে। এসব পণ্যের নামে 'সসেজ' বা 'চিকেন'-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে ইউরোপে চলমান বিতর্কে জরিপটি নতুন তথ্য যোগ করেছে।
ব্রায়ান্ট রিসার্চ যুক্তরাজ্যের ১,০০০-এর বেশি মানুষকে দুটি জনপ্রিয় মাংসহীন পণ্যের ছবি দেখিয়ে জানতে চায়, মোড়ক দেখে তাঁদের মনে হয় কি না এটি সাধারণ মাংস। কুয়র্নের মাইকোপ্রোটিন (ছত্রাকজাত প্রোটিন) সসেজ নিয়ে ৯৬ শতাংশ সঠিকভাবে বলেছেন এতে মাংস নেই, মাংস আছে ভেবেছেন ২ শতাংশ। দিস (This) ব্র্যান্ডের ভিগান চিকেন নিয়ে ৯৪ শতাংশ বলেছেন এটি মাংসহীন, উল্টোটা ভেবেছেন ২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ক্রিস ব্রায়ান্ট বলেন, এমন নামে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হন, এই দাবির বিরুদ্ধে এটি জোরালো প্রমাণ।
জরিপটি এল এমন সময়ে, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ম কড়া করছে। ইউরোপীয় পিপলস পার্টির ফরাসি সদস্য সেলিন ইমার্তের আনা কমন মার্কেট অর্গানাইজেশন বিধির সংশোধনীর পর ইইউ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভিগান ও নিরামিষ বিকল্প এবং কোষ থেকে চাষ করা মাংসের বিপণনে 'মাংস' এবং 'বিফ', 'চিকেন', 'পর্ক', 'ভিল'সহ আরও ৩১টি শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। তবে 'বার্গার', 'সসেজ', 'নাগেটস' ও 'হ্যাম' ছাড় পেয়েছে। আগস্টের মাঝামাঝি নিয়মটি ইইউর দাপ্তরিক গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে, উৎপাদকেরা তা মানতে তিন বছর সময় পাচ্ছেন।
এর কয়েক দিন পর ইপিপি, প্যাট্রিয়টস ফর ইউরোপ ও ইউরোপিয়ান কনজারভেটিভস অ্যান্ড রিফর্মিস্টসের সদস্যরা আরও সংশোধনীতে সই করেন, যাতে 'মিটবল'-এর মতো শব্দ এবং মাংস মেশানো পণ্যও তালিকায় আসে। সোশ্যালিস্টস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস, গ্রিনস ও দ্য লেফট তালিকাটি বাতিল বা শিথিলের প্রস্তাব দিয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কৃষি কমিটিতে ডিসেম্বরে ভোট হওয়ার কথা, চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের ভোট ২০২৭ সালে।
ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নতুন স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি চুক্তি ২০২৭ সালের মাঝামাঝি কার্যকর হলে এই নিয়ম যুক্তরাজ্যেও পৌঁছাতে পারে, কারণ চুক্তিটি খাদ্য লেবেলের কিছু ইইউ আইনের সঙ্গে দেশটিকে বেঁধে দিতে পারে। নিষেধাজ্ঞার সমর্থকেরা বলেন, মাংসহীন পণ্যে মাংসের শব্দ ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করে; তবে গ্রিন কুইনের উদ্ধৃত ইউরোপীয় ভোক্তা সংগঠন, স্মার্ট প্রোটিন প্রকল্প, ইউগভ এবং নেদারল্যান্ডস ও ইতালির জরিপেও দেখা গেছে, বেশির ভাগ ভোক্তা বিভ্রান্ত হন না। ২২টি ইইউ দেশের ৬০০-র বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের জোট নো-কনফিউশন কোয়ালিশন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ৭০ হাজারের বেশি সই সংগ্রহ করেছে।
কৃষকের জন্য এই বিতর্ক পশুপালন খাত আর বিকল্প প্রোটিন উৎপাদকদের বড় এক প্রতিযোগিতার অংশ: উদ্ভিদ, ছত্রাক বা কোষ থেকে তৈরি খাবার কী নামে বিক্রি হবে। প্রতিবেদনটি করেছেন গ্রিন কুইনের অনয় মৃদুল।
ছবি: Gordon Joly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)