জলাভূমিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে আগুন দেওয়ার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাজ্যের ভূমি ও গ্রামীণ ব্যবসার মালিকদের সংগঠন কান্ট্রি ল্যান্ড অ্যান্ড বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (সিএলএ)। তাদের যুক্তি, অনেক দমকল বাহিনী দাবানল মোকাবিলায় প্রস্তুত নয়। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৪৭টি দমকল বাহিনীর কাছে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন পাঠিয়েছিল সিএলএ, জবাব দিয়েছে ২৯টি। খবরটি দিয়েছে ফার্মার্স উইকলি।
জবাব দেওয়া বাহিনীর অর্ধেকের বেশি জানিয়েছে, তাদের দাবানলের জন্য আলাদা সুরক্ষা পোশাক নেই, যদিও দমকল বাহিনীগুলোই বারবার সতর্ক করেছে যে সাধারণ পোশাক অনেক ভারী, পরে থাকলে কর্মীরা অতিরিক্ত গরমে কষ্ট পান বা খুলে ফেলেন। এক-তৃতীয়াংশের ড্রোন নেই, অথচ নিরাপদে আগুন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে ড্রোনকে জরুরি মনে করা হয়। এদিকে ৭৭ শতাংশ স্থানীয় পরিষদে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই দাবানলের ঘটনা পুরো ২০২৪ সালের চেয়ে বেশি।
প্রশিক্ষণের অবস্থাও অসম। ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারে কর্মরত সদস্যদের মাত্র ১৫ শতাংশের হালনাগাদ দাবানল সনদ আছে, চেশায়ারে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন মাত্র ৮ শতাংশ কর্মী; আবার ডারহাম, কেন্ট ও ইস্ট সাসেক্সে সবাই প্রশিক্ষিত, যদিও বেশির ভাগই অনলাইনে, মাঠে নয়। তথ্য দেওয়া ২৯টি বাহিনীতে কর্মীসংকটে ডাকনির্ভর ইঞ্জিনগুলো বছরে গড়ে ৩২ শতাংশ সময় অচল ছিল।
সিএলএর সভাপতি গ্যাভিন লেন বলেন, মানুষকে রক্ষায় দমকল বাহিনীর জনবল, প্রশিক্ষণ ও বিশেষ সরঞ্জাম দরকার, আর সরকারের উচিত নিয়ন্ত্রিত আগুনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যাতে ভূমিমালিকেরা আগুন বিপর্যয়ে রূপ নেওয়ার আগেই জ্বালানির স্তূপ কমাতে পারেন। দমকল কর্মীদের ইউনিয়নও আগামী বছরের দাবানলের জন্য ভালো প্রস্তুতি, উন্নত ভূমি ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছে।
সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, দাবানল প্রস্তুতি সরকারের অগ্রাধিকার; দমকল ও উদ্ধারকারী অংশীদারদের নিয়ে একটি সম্মেলন ডাকা হচ্ছে, যা জাতীয় সক্ষমতা উন্নয়নে আগে দেওয়া ১০ কোটি পাউন্ডের ধারাবাহিকতা। তাঁর মতে, ভূমি ব্যবস্থাপনারও ভূমিকা আছে, যেমন পিটভূমি পুনরুদ্ধার ও অগ্নিনিরোধক ফাঁকা পথ তৈরি, যা আগুন লাগা বা দ্রুত ছড়ানো ঠেকায়।
ছবি: Humphrey Bolton / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly




মন্তব্য
(০)