জাতিসংঘ ১৯৯১ সাল থেকে ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালন করে। এ বছর বাংলাদেশে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। দিবসটি উপলক্ষে প্রথম আলোয় লেখা এক নিবন্ধে মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীমা শারমীন বলেছেন, প্রবীণদের যত্ন শুধু নিয়মিত ওষুধ কিনে দেওয়াতেই শেষ নয়।
নিবন্ধে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২.৪ বছর। ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ জনসংখ্যার ৯.৫ শতাংশ, অর্থাৎ দেশে এখন ১ কোটি ৬৬ লাখের বেশি প্রবীণ। তাঁদের বেশির ভাগ গ্রামে থাকেন, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা ও কাজের সুযোগ কম। একটি গবেষণার বরাতে লেখা হয়েছে, দেশের ৯৫ শতাংশ বয়স্ক মানুষের বেশির ভাগ একাধিক স্বাস্থ্য জটিলতায় ভোগেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রবীণদের দৈনন্দিন জীবন হতে হবে নিয়মমাফিক: সুষম ও সহজপাচ্য খাবার, পরিমিত শরীরচর্চা, দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপি। ঘুমের ওষুধ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে বলেছেন তিনি, কারণ এতে জটিলতা বাড়তে পারে।
খাবারের ক্ষেত্রে পেশিক্ষয় ঠেকাতে যথেষ্ট প্রোটিন দরকার; মাছ, ডিম, সবজি, ফলমূল, আঁশজাতীয় খাবার ও বাদাম রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়, কমাতে হবে অতিরিক্ত শর্করা ও চর্বি। হাড়ক্ষয় রোধে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি দরকার; বেলা ১১টা থেকে ২টার মধ্যে রোদ গায়ে লাগানো এবং দুধ বা টক দই খাওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
মনের যত্নও সমান জরুরি। পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ততায় বয়স্ক মা-বাবার সঙ্গে কথা না বললে তাঁরা একাকিত্বে ভোগেন। প্রতিদিন কিছুটা সময় গল্প করা, শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে উৎসাহ দেওয়া, ছাদবাগান বা পার্কে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া তাঁদের মন ভালো রাখে।
দুর্ঘটনা ঠেকাতে ঘরও হতে হবে নিরাপদ: পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, শুকনা ও পিছলমুক্ত মেঝে, টয়লেটে রেলিং আর অ্যান্টি-স্লিপ ম্যাট। চিকিৎসকের মতে, দেশে কেয়ার হোম ও হসপিস সেন্টারের মতো সমন্বিত বয়স্ক স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলাও এখন সময়ের দাবি।
ছবি: Adam Jones / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)