সম্ভাব্য এল নিনোয় নিউজিল্যান্ডের কিছু অংশে খরার ঝুঁকি বাড়ায় কৃষক ও চাষিদের এখনই শুকনো গ্রীষ্মের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছে ওয়েস্টপ্যাক এনজেড (Westpac NZ)। মাসের শুরুতে ব্যাংকটির অর্থনীতি দল দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা প্রকাশ করেছে; অতীতের তীব্র খরার ধাঁচে পরিস্থিতি গড়ালে জিডিপিতে ১ শতাংশ পর্যন্ত ধাক্কার আশঙ্কা তাতে।
ওয়েস্টপ্যাক এনজেডের কৃষিব্যবসা প্রধান রিচার্ড অ্যান্ডারসন (Richard Anderson) বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিণতি নিশ্চিত ধরে নেওয়ার কারণ নেই, তবে এখনকার সময়টা কাজে লাগিয়ে খামারে নমনীয়তা গড়া উচিত: ‘প্রতিটি খামার আলাদা, তাই এল নিনো আপনার ব্যবসার জন্য কী মানে আর ঝুঁকি সামলাতে কী পদক্ষেপ নিতে পারেন, ভাবার সময় এখনই।’ তাঁর জোর—খামার-পরিচালনার মতো আর্থিক পরিকল্পনাও সমান মনোযোগ দাবি করে: বাজেট হালনাগাদ, নিয়মিত পূর্বাভাস দেখা, পরিস্থিতি বদলালে বদলানোর প্রস্তুতি।
কিছু খামারে বাড়তি খাদ্য কেনা বা সেচের খরচ বাড়তে পারে; অন্যরা পরিকল্পনার আগেই পশু বেচে আয় এগিয়ে আনতে পারেন। পুরোনো মালিকদের আগের এল নিনো বছরে কী কাজে লেগেছিল তা ফিরে দেখতে আর নতুন মালিকদের সম্ভব হলে আগের মালিকের সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন অ্যান্ডারসন—‘স্থানীয় জ্ঞান অমূল্য হতে পারে’।
ব্যাংকের বাস্তব তালিকা: পশুপালকেরা আগে পানির নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ও খাদ্যের নিশ্চয়তা দেখুন—বাঁধ, চৌবাচ্চা ও পাইপ-ব্যবস্থার অবস্থা ও ধারণক্ষমতা যাচাই, বেলেজ, সাইলেজ ও খড়ের মজুত পর্যালোচনা, চাহিদা বাড়ার আগে বাড়তি খাদ্য বা চুক্তি ও দাম নিশ্চিত করা; ব্যবসার পশু যাঁদের আছে, খাদ্যে টান পড়লে আগেভাগে বিক্রির ‘ট্রিগার পয়েন্ট’ ঠিক করা; ফল, দানাশস্য ও উদ্যান ফসলের চাষিরা উষ্ণতায় লাভবান হতে পারেন, তবে সেচব্যবস্থার ছিদ্র, ভালভ ও পাম্প মেরামত, সংরক্ষণ ট্যাংক রক্ষণাবেক্ষণ আর এলাকার সম্ভাব্য পানি-নিষেধাজ্ঞা হিসাবে রাখা।
অ্যান্ডারসনের মতে, বেশির ভাগ কৃষক ও চাষি শুকনো গ্রীষ্ম সামলাতে আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে: ‘সাধারণভাবে কম ঋণ আর চড়া পণ্যমূল্যের কারণে এল নিনোর মুখোমুখি হতে শিল্প সম্ভবত সবচেয়ে ভালো অবস্থায়।’ তবে জ্বালানি ও সারের দামে খামারের মূল্যস্ফীতি নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগের কথা জানান তিনি—তাই নগদ প্রবাহের পূর্বাভাস ও বাজারে নজর রাখা জরুরি। শেষ পরামর্শ: উদ্বিগ্ন কৃষক যেন আগেভাগে ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেন—‘যত তাড়াতাড়ি আপনার পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ বুঝব, তত ভালোভাবে পাশে থাকতে পারব।’ প্রতিবেদনটি রুরাল নিউজের স্টাফ রিপোর্টারদের।
সূত্র: Rural News Group

মন্তব্য
(০)