তুলা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। আবহাওয়া, জমি ও পরিচর্যা ঠিক থাকলে তুলায় ভালো ফলন পাওয়া যায়, আর একই জমিতে পরে বোরো ধান, গম, ভুট্টা, আলু ও নানা সবজিও চাষ করা যায়। এগ্রিকেয়ার২৪ ডেস্কের এক নির্দেশিকায় তুলা চাষের মূল ধাপগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
তুলা উষ্ণ ও তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়ায় ভালো জন্মে। দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি এর উপযোগী; জমিতে পানি জমবে না এবং পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ থাকবে, এটা নিশ্চিত করতে হয়। মাটির পিএইচ ৬ থেকে ৭.৫ থাকা ভালো, বেশি অম্লীয় জমিতে প্রয়োজনমতো চুন দেওয়া যায়।
বীজ বোনার আগে বিঘাপ্রতি প্রায় ১ থেকে ১.৫ টন গোবর বা কম্পোস্ট দেওয়া যায়। এরপর ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে ও সমান করে আগাছা ও আবর্জনা পরিষ্কার করতে হয়। জাতভেদে আষাঢ়ের শুরু থেকে শ্রাবণের মাঝামাঝি পর্যন্ত বপনের উপযুক্ত সময়; স্থানীয় আবহাওয়া ও জাত অনুযায়ী তা কিছুটা বদলাতে পারে, হাইব্রিড জাত একটু আগে বোনা ভালো।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উফশী জাতে বিঘাপ্রতি প্রায় ১ কেজি এবং হাইব্রিড জাতে ৫০০-৬০০ গ্রাম বীজ লাগতে পারে। সারিতে বুনলে সারি থেকে সারি প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছ ৪৫ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা যায়। বীজ অল্প গভীরে বুনে হালকা মাটি দিয়ে ঢাকতে হয়; বেশি গভীরে বুনলে চারা গজাতে সমস্যা হয়।
মাটির উর্বরতা বুঝে জৈব ও রাসায়নিক সার দিতে হয়; জৈব সার মাটির গুণ ও পানি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, প্রয়োজনমতো সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হয়। রোগ ও পোকার ঝুঁকি কমাতে অনুমোদিত পদ্ধতিতে বীজ শোধন করা যায়, তবে কীটনাশক বা শোধনকারী উপকরণে অনুমোদিত মাত্রা ও কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মানা জরুরি।
ফুল ঝরে গেলে গাছে তুলার বল তৈরি হয়, পরিপক্ব হলে বল ফেটে সাদা আঁশ বেরিয়ে আসে। কৃষিসংশ্লিষ্টদের মতে, তুলা চাষ বাড়াতে উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক চাষপদ্ধতি, রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিশ্চিত করা দরকার।
ছবি: Atikur.khokon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)