সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৯°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৮%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বাহারি রঙের জিনিয়া: মেক্সিকোর ফুলের পরিচয় ও চাষের নিয়ম

মেক্সিকো থেকে আসা গন্ধহীন কিন্তু বাহারি রঙের জিনিয়া বীজ থেকে সহজেই জন্মানো যায়; রোদ, সুনিষ্কাশিত দোআঁশ মাটি আর গোড়ায় সেচ পেলে ছাদ বা বারান্দার টবেও ভালো ফোটে।

বাহারি রঙের জিনিয়া: মেক্সিকোর ফুলের পরিচয় ও চাষের নিয়ম
ফুল

২০২৫ সালের মার্চে জাগো নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জিনিয়া ফুলের পরিচয় ও চাষের কথা তুলে ধরা হয়। বাহারি রঙের এই মৌসুমি ফুল দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি চাষও সহজ; তবে এর কোনো গন্ধ নেই। জিনিয়ার আদি নিবাস মেক্সিকো, আর এখন এটি পৃথিবীর নানা দেশে বাগান, টব ও ছাদবাগানে জন্মানো হয়। বাংলাদেশে শীতের ফুল হিসেবে পরিচিত হলেও প্রতিবেদন অনুযায়ী জিনিয়া সারা বছরই চাষ করা যায়।

মেক্সিকো থেকে আসা ফুলের পরিচয়


জিনিয়া Asteraceae পরিবারের উদ্ভিদ। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, জার্মান বিজ্ঞানী ইয়োহান গটফ্রিড জিন (১৭২৭-১৭৫৯) মেক্সিকো থেকে Zinnia elegans-এর বীজ সংগ্রহ করেছিলেন, তাঁর নামেই এই গণের নামকরণ। গণের প্রজাতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত ঝোপঝাড় ও শুষ্ক তৃণভূমিতে জন্মায়, আর এদের বৈচিত্র্যের কেন্দ্র মেক্সিকো। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে অন্তত ২০টি প্রজাতি চিহ্নিত হওয়ার কথা বলা হয়; সবচেয়ে প্রচলিত প্রজাতিটি Zinnia elegans, যা কমন জিনিয়া নামে পরিচিত।

জিনিয়ার ফুল হয় সাদা, হলুদ, কমলা, লাল, গোলাপি, বেগুনি, বাদামি, এমনকি সবুজাভ রঙেরও। নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটি এক্সটেনশনের তথ্যে, Zinnia elegans-এর ফুলের মাথা ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি চওড়া হতে পারে এবং বেশির ভাগ ফুল আধা-ডাবল থেকে ডাবল ধরনের। জাগো নিউজ জানায়, জনপ্রিয় ডাবল জাতের ফুল দেখতে অনেকটা চন্দ্রমল্লিকার মতো; আকার ও রঙের বৈচিত্র্যে জিনিয়াকে ডালিয়া ও চন্দ্রমল্লিকার সঙ্গে তুলনা করা যায়।

ডালিয়ার মতো বড় ডাবল জিনিয়া, ভারতের তামিলনাড়ুর ইয়েরকাডে। ছবি: Yercaud-elango / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ডালিয়ার মতো বড় ডাবল জিনিয়া, ভারতের তামিলনাড়ুর ইয়েরকাডে। ছবি: Yercaud-elango / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

গাছ ও ফুলের গড়ন


প্রতিবেদন অনুযায়ী জিনিয়া গাছ সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার লম্বা হয় এবং ডালপালা কম থাকে। পাতা ছোট, ধূসর সবুজ ও খসখসে; উইকিপিডিয়া পাতাকে বর্শার আকৃতির ও শিরিষ কাগজের মতো খসখসে বলে বর্ণনা করেছে। এনসি স্টেট এক্সটেনশন জানায়, জাতভেদে গাছের উচ্চতা ৬ ইঞ্চি থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। প্রায় প্রতিটি শাখার মাথায় ঊর্ধ্বমুখী ফুল ফোটে, অসংখ্য কোমল পাপড়ির মাঝখানে থাকে পরাগ, আর ফোটা ফুল গাছে অনেক দিন সতেজ থাকে। প্রজাপতি, মৌমাছি ও হামিংবার্ডের মতো পরাগবাহী প্রাণী জিনিয়ার দিকে আকৃষ্ট হয়।

বীজ বোনা থেকে পরিচর্যা


জিনিয়ার বংশবিস্তার হয় বীজ থেকে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে জুনের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে বীজ বোনা ও চারা তৈরির উপযুক্ত সময় বলা হয়। এনসি স্টেট এক্সটেনশনের পরামর্শ, শীতপ্রধান দেশে শেষ তুষারপাতের পর সরাসরি জমিতে বীজ বোনা। উইকিপিডিয়া জানায়, শিকড় নাজুক বলে জিনিয়া চারা স্থানান্তর ভালোভাবে সহ্য করে না, তবে লাগানোর ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ আগে ঘরে চারা তৈরি করে নেওয়া যায়। ভালো ফলনের জন্য উৎসগুলোর পরামর্শ:

  • আলো: সারা দিন পূর্ণ রোদ; এনসি স্টেটের হিসাবে দিনে অন্তত ৬ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক।
  • মাটি: জৈব পদার্থসমৃদ্ধ, উর্বর ও সুনিষ্কাশিত দোআঁশ মাটি; স্যাঁতসেঁতে জমিতে জিনিয়া ভালো হয় না।
  • সেচ: পাতা শুকনো রাখতে গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া; ওপর থেকে দিতে হলে ভোরে দেওয়া, যাতে পাতা দ্রুত শুকিয়ে যায়।
  • দূরত্ব: গাছের মাঝে পর্যাপ্ত ফাঁকা রাখা, যাতে বাতাস চলাচল করে এবং রোগ কম হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির হোম অ্যান্ড গার্ডেন ইনফরমেশন সেন্টার জানায়, জিনিয়ার পরিচিত রোগ পাউডারি মিলডিউ, যাতে পাতায় ধূসর সাদা পাউডারের মতো আস্তরণ পড়ে। এ ছাড়া অল্টারনারিয়া, ব্যাকটেরিয়াজনিত ও সারকোস্পোরা পাতার দাগ রোগ দেখা দেয়, আর আংশিক ছায়ায় পাতার দাগ রোগের ঝুঁকি বাড়ে। গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় জাবপোকা, মাকড় ও সাদা মাছি ক্ষতি করতে পারে; উপকারী পোকা রক্ষায় সংস্থাটি বিস্তৃত মাত্রার কীটনাশকের বদলে কীটনাশক সাবান ব্যবহারের পরামর্শ দেয়।

চারা তৈরির প্লাগে বেড়ে ওঠা জিনিয়ার চারা, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। ছবি: S.G.S. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চারা তৈরির প্লাগে বেড়ে ওঠা জিনিয়ার চারা, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। ছবি: S.G.S. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ফুলদানি ও ছাদবাগান থেকে মহাকাশ


কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে ফুলদানি সাজাতে ও তোড়া বানাতে জিনিয়ার জুড়ি নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় নার্সারিতে জিনিয়ার চারা পাওয়া যায়, আর বাড়ির ছাদ বা বারান্দার টবেও এটি সহজে চাষ করা যায়। এনসি স্টেট এক্সটেনশন টব, বাগানের কিনারা, দলবদ্ধ রোপণ ও পরাগবাহী প্রাণীর বাগানের জন্যও জিনিয়ার কথা বলে।

জিনিয়া মহাকাশেও ফুটেছে। নাসার তথ্যমতে, ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর মহাকাশচারী কেল লিন্ডগ্রেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ভেজি উদ্ভিদ-চাষ ব্যবস্থায় জিনিয়ার বীজভরা শিকড়-গদি চালু করেন। ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি এক্সপেডিশন ৪৬-এর কমান্ডার স্কট কেলি সেখানে ফোটা জিনিয়ার ছবি তোলেন। নাসা জানায়, এই পরীক্ষা বিজ্ঞানীদের ক্ষুদ্র মাধ্যাকর্ষণে উদ্ভিদের বৃদ্ধি বুঝতে এবং দূর মহাকাশ অভিযানের জন্য মহাকাশচারীদের নিজে নিজে বাগান করার অনুশীলনে সাহায্য করে।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ভেজি ব্যবস্থায় ফোটা জিনিয়া, জানুয়ারি ২০১৬। ছবি: NASA/Scott Kelly / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ভেজি ব্যবস্থায় ফোটা জিনিয়া, জানুয়ারি ২০১৬। ছবি: NASA/Scott Kelly / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, উইকিপিডিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটি এক্সটেনশন, ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি হোম অ্যান্ড গার্ডেন ইনফরমেশন সেন্টার, নাসা

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফুল

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

সেচ ছাড়া শুধু শীতের বৃষ্টির পানিতে চাষ: কোন ফসল টেকে, দেখাল ওরেগনের গবেষণা

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির ড্রাই ফার্মিং প্রোগ্রাম টমেটো, শসা-তরমুজ, সরগাম ও কাটা ফুল পরীক্ষা করছে, যেগুলো গ্রীষ্মে সেচ ছাড়াই মাটিতে জমা শীতের বৃষ্টির পানিতে বাড়ে।

Farms.com৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

শখের ১২০ জাতের ক্যাকটাস থেকে মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা বাড়তি আয়

চাকরির পাশাপাশি গ্রামে ক্যাকটাস ও সাকুলেন্টের সংগ্রহশালা গড়েছেন আলতাফ হোসেন; বাগানে এখন দুই থেকে তিন লাখ টাকার গাছ, সঙ্গে অর্কিডও।

দিনাজপুর টিভি৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

জাতীয় ফুল শাপলা: খাবার, খৈ আর প্রাচীন ইতিহাসের জলজ উদ্ভিদ

সাদা শাপলা (Nymphaea nouchali) বাংলাদেশের জাতীয় ফুল; এর ডাঁটা সবজি, শালুক কন্দ আর ভেটের বীজে তৈরি হয় ঢ্যাপের খৈ, আর পৃথিবীতে শাপলার প্রজাতি প্রায় অর্ধশত।

দেশ রূপান্তর৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)