শখ থেকে শুরু করে গ্রামে বসেই ক্যাকটাসের বাণিজ্যিক উদ্যোগ গড়েছেন আলতাফ হোসেন। চাকরির পাশাপাশি তার সংগ্রহে এখন প্রায় ১২০ জাতের ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট। এই বাগান থেকে মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বাড়তি আয় হচ্ছে তার।
অনলাইনে কয়েকজনের উদ্যোগ দেখে প্রথম ক্যাকটাস সংগ্রহ শুরু করেন তিনি। পরে সামাজিক মাধ্যমে বিক্রির পোস্ট দিয়ে ৩ হাজার ৭০০ টাকার একটি ক্রয়াদেশ পান, সেখান থেকেই বাণিজ্যের আগ্রহ। এখন তার বাগানে দুই থেকে তিন লাখ টাকার ক্যাকটাস রয়েছে।
কাঁটাযুক্ত রসালো গাছ ক্যাকটাস, আর কাঁটাহীন মসৃণ পাতার রসালো উদ্ভিদ সাকুলেন্ট; বাজারে সাকুলেন্টের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। তার গাছ বিক্রি হয় ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে আমদানি করা বিরল সাকুলেন্ট ৮০০ টাকা পর্যন্ত। ছোট টবে পাঁচ জাতের ক্যাকটাস সাজিয়ে মিশ্র টব আর কাচের পাত্রে ক্ষুদ্র প্রাকৃতিক দৃশ্যের টেরারিয়ামও বানান তিনি।
চারা তৈরিতে সাধারণ দোআঁশ মাটির সঙ্গে বালি মেশান তিনি; তবে স্টাপেলিয়া গোত্রের গাছে বালি কমিয়ে মাটির ভাগ বাড়াতে হয়। ক্যাকটাসে রোগ কম হলেও ছত্রাক ঠেকাতে নিয়মিত ছত্রাকনাশক দেন, আর ১৫ দিন পরপর নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ও কপারের সুষম সার স্প্রে করেন।
তার নার্সারিতে ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে আনা সাত রঙের ডাবল পাপড়ির কালাঞ্চো আছে, দেখতে অনেকটা গোলাপের মতো। আছে নাইট কুইন পরিবারের পিকক টেইল বা ময়ূরের লেজ নামের ক্যাকটাসও।
ছায়াযুক্ত জায়গা কাজে লাগিয়ে অর্কিড চাষও শুরু করেছেন তিনি: ড্যান্সিং ডল নামে পরিচিত অনসিডিয়াম প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকায়, ডেনড্রোবিয়াম ও ভ্যান্ডা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। সামনে বিলুপ্তপ্রায় ১০০ থেকে ২০০ প্রজাতির ঔষধি গাছ সংগ্রহ ও চারা উৎপাদনের পরিকল্পনা আছে তার।
ছবি: Lionel Allorge / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)