মৌসুমে সেচ না দিয়ে শীতের বৃষ্টিতে মাটিতে জমে থাকা পানি দিয়েই ফসল ফলানোকে বলে শুষ্ক চাষ বা ড্রাই ফার্মিং। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির (ওএসইউ) গবেষকেরা বলছেন, এতে অনেক কম পানিতে উৎপাদন ধরে রাখা যায়, তবে কেবল যেখানে মাটি আর ফসল দুটোই উপযুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রাই ফার্মিং প্রোগ্রামের এসব ফলাফল প্রকাশ করেছে ফার্মস ডটকম।
প্রথম শিক্ষা হলো, সব খামার এর উপযোগী নয়। ওএসইউর সবজি গবেষণা খামারের মাটি গভীর, শীতের প্রচুর পানি ধরে রেখে গ্রীষ্মজুড়ে ধীরে ধীরে ফসলকে দেয়। প্রোগ্রামের প্রধান ম্যাট ডেভিস বলেন, এই জায়গাটিকে ড্রাই ফার্মিংয়ের জন্য চমৎকার করে তুলেছে বেশ কয়েকটি বিষয়। দ্বিতীয় শিক্ষা আগাছা দমন: আগাছা ফসলের পানিতে ভাগ বসায়, তাই অগভীর চাষ, যত্নে জমি তৈরি আর ঠিক সময়ে আচ্ছাদন ফসল ব্যবস্থাপনা এই পদ্ধতির অংশ।
সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ফসল টমেটো। সেচের টমেটোর চেয়ে শুষ্ক চাষের টমেটোর ফলন সাধারণত কম, কিন্তু স্বাদের জন্য ক্রেতারা প্রায়ই বেশি দাম দেন, তাতে কম ফলনের ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে যায়। ১০০টির বেশি টমেটো লাইন নিয়ে এক গবেষণায় গাছের চাপ, ফলের মান আর ফলের তলায় পচন (ব্লসম এন্ড রট) প্রতিরোধে বড় পার্থক্য পাওয়া গেছে; কিছু জাত শিকড় দিয়ে মাটির গভীরের পানি নেয়, আবার কিছু জাত দ্রুত ফল ধরায় শক্তি দেয়।
পরীক্ষামূলক প্লটে আরও ছিল তরমুজজাতীয় ফল, শসা-তরমুজ (কিউকাম্বার মেলন), সরগাম, ভুট্টা ও বিশেষ সবজি। সাধারণ শসার চেয়ে খরা বেশি সইতে পারে বলে শসা-তরমুজ নজর কেড়েছে, পানির টানে শসায় যে তেতো ভাব আসে তা-ও এতে হয় না। পানি কম থাকলে সরগাম প্রায়ই ভুট্টার চেয়ে সুস্থ ও বেশি ফলনশীল থেকেছে। কসমস, সূর্যমুখী, জিনিয়া, গাঁদা ও স্ট্রফ্লাওয়ারের মতো কাটা ফুলেরও ডাঁটার মান, দৈর্ঘ্য ও উৎপাদন মাপা হচ্ছে।
সেচ ছাড়া ভালো ফলন দেওয়া গাছ থেকে বীজ রাখলে প্রজন্মে প্রজন্মে সেটি শুষ্ক অবস্থায় আরও খাপ খায় কি না, তা-ও দেখছে দলটি। ওএসইউ এক্সটেনশন সার্ভিসের জৈব বীজ বিশেষজ্ঞ লুকাস নেবার্ট বলেন, প্রতিবার বীজ রাখা ও বাছাইয়ের সঙ্গে গাছটি খাপ খাওয়াচ্ছে, বিবর্তিত হচ্ছে; তাই শুষ্ক চাষে বীজ তৈরি করলে হয়তো তা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেবে।
ছবি: Dwight Sipler / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farms.com




মন্তব্য
(০)