কৃষকের সবজির অপচয় কমাতে বগুড়ায় সরকারি উদ্যোগে বসানো আটটি সৌরবিদ্যুৎচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজের বেশিরভাগ প্রায় আট মাস পরও তালাবদ্ধ। কয়েকটি চালু থাকলেও ভেতরে কোনো কৃষিপণ্য নেই, কোথাও সৌরবিদ্যুৎ বাদ দিয়ে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ চালানো হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থে "ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ" প্রকল্পে শিবগঞ্জে চারটি, গাবতলীতে তিনটি ও সারিয়াকান্দিতে একটি কনটেইনারভিত্তিক হিমাগার বসানো হয়েছে। প্রতিটির খরচ প্রায় ১৫ লাখ টাকা; এগুলোতে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সবজি রাখা যায়।
মহাস্থান হাটের কাছে মনিতলার অপারেটর মো. রোকনুল ইসলাম রোকন জানান, কনটেইনার পাওয়ার পর সংযোগসহ নানা কাজে তার প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সৌর প্যানেল, লিথিয়াম ব্যাটারি ও গ্রিড সংযোগ থাকলেও তিনি মূলত গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, মাসে বিল আসে ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। ১৪ দিন কাঁচামরিচ রেখে দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসান হয়, পরে বিটরুট ও লেবু রেখেছিলেন; এখন হিমাগার খালি।
আরেক অপারেটর তাহেরুল ইসলাম বলেন, অল্প সময় পটল ও ঢেঁড়স রেখেছিলেন, কিন্তু চালানোর প্রশিক্ষণ না পাওয়ায় সেটি তালা দিয়ে রেখেছেন। গাবতলীর বাগবাড়ির অপারেটর মো. রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, কৃষক পণ্য না আনলে চালু রেখে লাভ নেই, আগ্রহও কম। মোকামতলার মো. সুজাউল ইসলামের মতে, অনেক কৃষক এখনো এ ধরনের হিমাগারের সঙ্গে পরিচিত নন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. মাহফুজ আলম জানান, বগুড়ায় বছরে পাঁচ লাখ টনের বেশি সবজি হয়, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এর ১ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টনের বেশি নষ্ট হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৯৫ থেকে ৪০০ কোটি টাকা। দেশে ১০০টি কনটেইনার হিমাগার বসানোর উদ্যোগের আটটি বগুড়ায়; শুরুতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা হচ্ছে, সময়ের সঙ্গে তা কাটবে বলে আশা তার।
উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, অভিযোগগুলো নোট করা হচ্ছে; প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়ের মাসরুর সম্প্রতি কয়েকটি ইউনিট পরিদর্শন করেছেন, পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপারেটরদের প্রশিক্ষণ, কৃষকের সচেতনতা, সচল সৌরব্যবস্থা আর বাজারজাতের পরিকল্পনা ছাড়া শুধু অবকাঠামোয় অপচয় কমবে না।
এগ্রিকেয়ার২৪ প্রতিবেদনটি রাইজিংবিডি ডট কম থেকে নিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)