শীতকালীন ফসল আলু সাধারণত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে রোপণ করা হয়। খাবারের পাশাপাশি চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো প্রক্রিয়াজাত পণ্যেও আলুর চাহিদা আছে। মৌসুম শুরুর আগে চাষের মূল ধাপগুলো তুলে ধরেছে এগ্রিকেয়ার২৪।
জমি: দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি আলুর জন্য সবচেয়ে ভালো। ভালোভাবে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। পচা গোবর বা জৈবসার দিলে মাটির গুণ ও পানি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে।
বীজ: রোগমুক্ত, মানসম্মত বীজ জরুরি। সাধারণত মাঝারি আকারের সুস্থ কন্দ বীজ হিসেবে লাগানো হয়; বড় কন্দ কেটে নেওয়া যায়। কাটা বীজ কিছুক্ষণ ছায়ায় রেখে কাটা জায়গা শুকিয়ে লাগালে পচন ও রোগের ঝুঁকি কমে।
সার ও সেচ: জৈবসার, ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপিসহ প্রয়োজনীয় সার দিতে হবে, তবে মাত্রা মাটি ও জাতভেদে আলাদা, তাই স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে দেওয়াই নিরাপদ। জমিতে পানি জমতে দেওয়া যাবে না; সেচের পর নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
রোগবালাই: সবচেয়ে ক্ষতিকর লেট ব্লাইট বা নাবি ধসা, অনুকূল আবহাওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে গাছ ও কন্দ নষ্ট করে। কন্দ পচা ও পোকার আক্রমণও হতে পারে। রোগমুক্ত বীজ, ভালো নিষ্কাশন আর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি; আক্রমণ হলে কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনুমোদিত বালাইনাশক।
তোলা: জাত ও আবহাওয়াভেদে রোপণের ৯০ থেকে ১২০ দিনে আলু তোলা যায়। পাতা ও কাণ্ড শুকিয়ে আসা আর কন্দের খোসা শক্ত হওয়া তোলার লক্ষণ। তোলার পর ভালো করে শুকিয়ে বাছাই করে রাখতে হবে। ফলন ও লাভ নির্ভর করে জাত, খরচ, আবহাওয়া ও বাজারদরের ওপর, তাই খরচ কমানো আর সঠিক সময়ে বিক্রির পরিকল্পনা জরুরি।
ছবি: sakib454590 / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)