গত এক দশকে দেশে চায়ের পাশে শক্ত জায়গা করে নিয়েছে কফি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য তুলে ধরে প্রথম আলো জানিয়েছে, ২০০৩ সালে দেশে কফি আমদানি হয়েছিল ১৩৯ টন, ২০১২ সালে ২৬৪ টন, আর ২০২৫ সালে তা পৌঁছেছে ১ হাজার ৭৪৫ টনে। অর্থাৎ ১৩ বছরে আমদানি বেড়েছে ছয় গুণের বেশি।
ডিএইর পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক দশকে চায়ের বাজার বছরে গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে, কফির বাজার বেড়েছে গড়ে ৫৬ শতাংশ হারে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে কফির দাম ৩০ শতাংশ বাড়া এবং আমদানি শুল্ক বৃদ্ধিতে আমদানি কমে ১ হাজার ৪৩৯ টনে নামে, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাবে আগের বছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম। এখন প্রায় ৪০টি দেশ থেকে কফি আসে, এর ৮৮ শতাংশ ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল ও ভিয়েতনাম থেকে; সবচেয়ে বেশি ব্রাজিল থেকে।
১৯৯৮ সালে নেসলে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কফি বাজারজাত শুরু করে। ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, এখন আবুল খায়ের, প্রাণ-আরএফএল, বেক্সিমকো ও মেঘনা গ্রুপসহ ২৫০টির বেশি কোম্পানি কফি আমদানি ও বাজারজাত করছে। শহরে বড় চেইনের পাশাপাশি ছোট উদ্যোক্তারাও ক্যাফে খুলছেন।
আমদানির পাশাপাশি বাড়ছে দেশীয় উৎপাদন। পার্বত্য তিন জেলায় শুরু হলেও এখন টাঙ্গাইল, রংপুর ও নীলফামারীতেও বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষ হচ্ছে। ডিএইর কর্মকর্তারা জানান, বাজার ভালো থাকায় কৃষকেরা আগ্রহী হচ্ছেন এবং প্রতিবছর চাষের পরিধি বাড়ছে। আবুল খায়ের গ্রুপ পার্বত্য অঞ্চলে বাণিজ্যিক কফি চাষ করছে, আর নর্থ এন্ড প্রায় এক দশক ধরে পাহাড়ের কৃষকদের সহায়তা দিয়ে তাঁদের কফি নিজেদের ক্যাফেতে বিক্রি করছে।
বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, দেশে কফি উৎপাদকদের উৎসাহ দিতে সুরক্ষা দরকার, তাই আমদানি শুল্ক না কমিয়ে বাড়তি রাখা উচিত। বর্তমানে ২.৫ কেজি পর্যন্ত প্যাকেটজাত কফি আমদানিতে শুল্ক ৯৬.১ শতাংশ, বাল্ক আমদানিতে ৬৪.২৫ শতাংশ।
ছবি: Marcelo Corrêa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)