ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্প হেলএক্স (HelEx) ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও সার্বিয়ায় খরা ও তাপসহিষ্ণু সূর্যমুখীর শেষ দফার মাঠ পরীক্ষার বীজ বুনছে। প্রকল্পের মেয়াদ আর এক বছর বাকি, জানিয়েছে অ্যাগ্রোপেজেস।
বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ সূর্যমুখী এখন চাষ হয় ইউরোপ মহাদেশে, কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পানির সংকটে ফলন কমছে। প্রকল্প সমন্বয়ক, ফ্রান্সের জাতীয় কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইনরায়ে) নিকোলা লংলাদ (Nicolas Langlade) বলেন, কিছু না করলে সূর্যমুখীর ফলন কমবে এবং গ্রিস ও বুলগেরিয়ার মতো জায়গায় চাষ আর লাভজনক না-ও থাকতে পারে।
প্রকল্পে গবেষক, উদ্ভিদ প্রজননবিদ, জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কৃষকসহ ১৭টি অংশীদার আছে; প্রচলিত প্রজনন ও জিন সম্পাদনা দুটোই ব্যবহার হচ্ছে। খরাসহিষ্ণুতার জন্য দায়ী জিনোম অঞ্চল চিহ্নিত করার আগের কাজের ভিত্তিতে দলটি যুক্তরাষ্ট্রের শুষ্ক অঞ্চলের বুনো সূর্যমুখী যাচাই করে সবচেয়ে সহনশীলগুলোকে ইউরোপের বাণিজ্যিক জাতের সঙ্গে সংকরায়ণ করেছে। বীজ কোম্পানি লিমাগ্রেইন, আরএজিটি, লিডিয়া, এমএএস সিডস ও সিনজেন্টা এসব জলবায়ু-সহিষ্ণু হাইব্রিড ইউরোপজুড়ে বাজারে আনার আশা করছে।
গবেষকেরা ফুলের অতিবেগুনি রং ও মধুরসের চিনির জন্য দায়ী জিনও শনাক্ত করেছেন, যাতে সূর্যমুখী পরাগায়নকারী পোকার কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়; তাঁরা দেখেছেন, মৌমাছি মধুরসের অণুজীবের পার্থক্যও চিনতে পারে। লংলাদ জানান, নতুন জাতটি প্রচলিত জাতের চেয়ে ছয় গুণ বেশি মধুরস ও পরাগ দেয় এবং গ্রীষ্মে ফোটে, যখন অনেক মৌচাকে খাবারের টান পড়ে। জাতটি নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় আছে, ২০২৮ সালে বাজারে আসবে বলে তিনি আশা করছেন।
সূর্যমুখীর বীজে প্রায় ৪৩ শতাংশ তেল ও ১৭ শতাংশ আমিষ থাকে। উদ্ভিজ্জ আমিষের চাহিদা মেটাতে এবং আমদানি করা সয়াবিন ও ভোজ্যতেলের ওপর ইউরোপের নির্ভরতা কমাতে প্রকল্পটি আমিষ বাড়ানোর জিনও খুঁজছে।
ছবি: BenAveling / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgroPages





মন্তব্য
(০)