চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার নিয়ে তিন পক্ষের তিন কথা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, সারের সংকট নেই। ডিলারদের দাবি, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম, তাই সবাইকে একসঙ্গে সার দেওয়া যাচ্ছে না। আর কৃষকেরা বলছেন, মধ্যরাতে সারিতে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনমতো সার মিলছে না, অথচ খুচরা দোকানে বাড়তি দাম দিলেই টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি পাওয়া যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সদর উপজেলার দেবীনগর বোর্ডপাড়ায় ডিলার পয়েন্টে অন্তত পাঁচ শ কৃষক সরকারি দামে সার কিনতে ভিড় করেন বলে জানিয়েছে আজকের পত্রিকা। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বাগ্বিতণ্ডা হয়, এক পর্যায়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।
দেবীনগরের কৃষক খাইরুল ইসলাম বলেন, রাত তিনটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না; জাতীয় পরিচয়পত্র জমা নিয়ে মাসে এক থেকে দুই বস্তা দেওয়া হচ্ছে, অথচ তাঁর জমিতে লাগে পাঁচ থেকে ছয় বস্তা। কৃষক বাসার আলীর অভিযোগ, খুচরা দোকানে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপিতে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। গোমস্তাপুরের কৃষক নিয়ামুল হক বলেন, কয়েক দোকান ঘুরে সার জোগাড় করতে যাতায়াত ও পরিবহন খরচও বাড়ছে, সময়মতো সার না পড়ায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
সদর ছাড়াও নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট ও শিবগঞ্জে একই অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি গোমস্তাপুর উপজেলা চত্বরে সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকেরা বিক্ষোভ করেছেন, আর ভোলাহাটে একটি ডিলার পয়েন্টে সারিতে দাঁড়ানো নিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এটি কোনো সিন্ডিকেটের কারসাজি নয়; কৃষকের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় সবাইকে একসঙ্গে প্রয়োজনীয় সার দেওয়া যাচ্ছে না।
জেলা কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মনে করেন, জেলায় সার ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি আছে, আর সার, বীজ ও মনিটরিং কমিটির মধ্যে সমন্বয়হীনতা সংকট বাড়াচ্ছে। তাঁর মতে, মাঠে কৃষকের প্রকৃত চাহিদা, ডিলারদের বরাদ্দ ও বাজারের সরবরাহ মিলিয়ে নজরদারি না করলে সরকারি বরাদ্দ থাকার পরও কৃষক পর্যায়ে সংকট থেকে যাবে।
ছবি: Shahidul Hasan Roman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)