জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বছরের দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকা যেসব জমিতে অন্য কোনো ফসল ফলানোর সুযোগ নেই, সেখানে পানিফল চাষ করে আয় করছেন কৃষকেরা। কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় দিন দিন এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছে ডেইলি বাংলাদেশ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ জলাশয় ও নিচু জমির পানির ওপর এখন পানিফলের সবুজ পাতা। কৃষকেরা পানিতে নেমে পরিপক্ব ফল তুলছেন, ঝুড়ি ও বস্তায় ভরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। এলাকায় যার নাম ‘শিঙাড়া’, সেই ফলের ভেতরের সাদা শাঁস সেদ্ধ করে সকালের নাশতায় খাওয়া হয়, পাকা ফল সবজি হিসেবেও চলে, আর রোদে শুকিয়ে মেশিন বা ঢেঁকিতে ভেঙে আটা বানিয়ে রুটিও তৈরি হয়।
কৃষকেরা জানান, কার্তিক-অগ্রহায়ণে হাতে নগদ টাকা কম থাকে; এ সময় পানিফল বিক্রির টাকা তাঁদের কাজে লাগে। কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, আগে এই জমি পড়ে থাকত, এখন পানিফল চাষ করে খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকে, আর বাজারে দাম ভালো থাকলে এ চাষ দিয়ে সংসার চালানো যায়।
ফল তোলা, বাছাই ও পরিবহনের কাজে শ্রমিকদেরও কাজ জুটছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া বলেন, দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকা জমিতে পানিফল চাষের ভালো সম্ভাবনা আছে; কৃষকদের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষিবিদেরা আশা করছেন, ফল প্রক্রিয়াজাত করে গ্লুকোজও তৈরি করা যেতে পারে।
কৃষকদের দাবি, উন্নত জাতের চারা, সহজ শর্তে ঋণ, চাষের পরামর্শ আর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে এ চাষ আরও বাড়ানো সম্ভব। জলমগ্ন অনাবাদি জমি পানিফল চাষের আওতায় এলে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি স্থানীয় কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
ছবি: Steve Hurst, USDA-NRCS PLANTS Database / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ





মন্তব্য
(০)