খুলনার ডুমুরিয়ার কাইনমারা খাল খননের আগে বর্ষায় মাঠ পানিতে ডুবে থাকত, একটি ফসল তুলতেই কৃষকদের হিমশিম খেতে হতো। খাল কাটার পর সেখানে এখন তিন থেকে চারটি ফসল হচ্ছে, মাছও মিলছে, ধানের পাশাপাশি লাখ লাখ টাকার সবজি উৎপাদন হচ্ছে বলে জানিয়েছে দিনাজপুর টিভি।
নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক সহায়তায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা (আইডব্লিউআরএম) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল, যশোর ও সাতক্ষীরায় এ প্রকল্পে এ পর্যন্ত ৯২টি খাল পুনর্খনন হয়েছে, সুফল পাচ্ছেন ৯০ হাজারের বেশি মানুষ। লক্ষ্য কৃষিতে মিঠা পানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জলবায়ু সহিষ্ণু ও পুনরুৎপাদনমূলক (রিজেনারেটিভ) কৃষিকে উৎসাহ দেওয়া।
প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য খাল খনন ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষকে সরাসরি যুক্ত করা। কৃষকেরা নিজেদের কমিটির মাধ্যমে খাল পরিষ্কার ও দেখভাল করেন; দূরত্ব অনুযায়ী প্রত্যেক কৃষক নির্দিষ্ট চাঁদা দেন, সেই তহবিল যায় খাল রক্ষণাবেক্ষণে।
পানি নিষ্কাশন ও সেচ সহজ হওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণে কৃষকেরা টেকসই চাষে ঝুঁকেছেন। আগে বিঘায় ১৮ থেকে ২০ মণ ধান হতো, এখন হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ মণ। জৈবসার ও ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারের প্রশিক্ষণে মাটির উর্বরতা রক্ষা হচ্ছে, রাসায়নিক সারের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কৃষকদের ব্রি ধান ১০০, ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২, বিনা ধান ১৫ ও বিনা ধান ৭-এর মতো উন্নত ও পরিবেশসহিষ্ণু জাতের সঙ্গে পরিচয় করানো হয়েছে, সঙ্গে সবজির আগাম, মধ্যম ও নাবি জাত। খালপাড়ের সড়কে কৃষকের পণ্য বিক্রির কেন্দ্র বসানো হয়েছে, ফলে তাঁরা বাজারদর জেনে সরাসরি বিক্রি করে মধ্যস্বত্বভোগীর খরচ বাঁচাচ্ছেন।
ডাচ রাষ্ট্রদূত মনে করেন, সরকারের খাল খনন কর্মসূচি গ্রামের মানুষের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ অভিজ্ঞতা দেখায়, জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে পরিকল্পনা নিলে গ্রামীণ জনপদের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।
ছবি: Ashikul Islam Anik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)