চলনবিলে বন্যার পানির সঙ্গে আসা কচুরিপানা আটকে নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও নলডাঙ্গা এবং পাশের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকেরা বলছেন, দ্রুত এই কচুরিপানা সরানো না গেলে আসন্ন রবি মৌসুমে এসব জমিতে আবাদ করা যাবে না, কৃষি সময়ের নাটোর প্রতিনিধি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিংড়ার ১৫ হাজার, নলডাঙ্গার নিম্নাঞ্চলের ৫ হাজার, তাড়াশের ৪ হাজার এবং গুরুদাসপুরের ১ হাজার হেক্টরসহ অন্তত ২০টি বিলের পানিতে এখন কচুরিপানা ভাসছে। বর্ষার পর এসব বিলে প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে গম, ভুট্টা, সরিষা, বোরো ধান ও মসলা ফসলের চাষ হয়; কচুরিপানায় ঢাকা জমিতে পানি নামার পর সাধারণত সরিষা, গম, ভুট্টা ও রসুন বোনা হয়।
স্থানীয়দের মতে, অপরিকল্পিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ এবং দখল-দূষণে নদী সংকুচিত হওয়ায় বিলের পানিতে ভাটির টান নেই, ফলে কচুরিপানা আটকে বংশ বিস্তার করছে। সিংড়া কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে বানের পানিতে আসা কচুরিপানা আর ফিরে যায়নি; ফলে বোরো মৌসুমে শুধু জোলারবাতা ও চৌগ্রাম বিলেই প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা যায়নি, সরিষার লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়নি।
কচুরিপানা সরানো খরচসাপেক্ষ। শ্রমিক সংকটের সুযোগে দিনমজুরি উঠেছে ৬০০ টাকায়; এক বিঘা পরিষ্কার করতে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক লাগে, খরচ পড়ে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। অনেকে চড়া সুদে মহাজনি ঋণ নিয়ে জমি প্রস্তুতের চেষ্টা করছেন। বেড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর ১০ হাজার টাকা খরচ করে এক বিঘার কচুরিপানা সরিয়ে ধান লাগালেও আগাম বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারেননি।
ক্ষতি শুধু চাষে নয়। কচুরিপানায় বিলের লতাগুল্ম ও জলজ উদ্ভিদ নষ্ট হচ্ছে, শাপলা-পদ্মের দেখা নেই, নৌ চলাচলও ব্যাহত। ডাহিয়া গ্রামের মৎস্যজীবী জুলহাজ হোসেন বলেন, এই বর্ষায় কচুরিপানায় বিল একাকার হয়ে যাওয়ায় মাছ ধরতে পারছেন না; তাঁর মতো কয়েক হাজার মৎস্যজীবী বিপাকে।
নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, কী পরিমাণ ফসলি জমি কচুরিপানার নিচে আছে, তা তিনি বলতে পারছেন না; অপসারণে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়



মন্তব্য
(০)