ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বক্সা টাইগার রিজার্ভে বিহার থেকে আনা একটি বাঘিনিকে কয়েক মাস ঘেরাটোপে না রেখে সরাসরি মুক্ত জঙ্গলে ছাড়ার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে উড়িয়ে আনার পর শুক্রবার নতুন তৈরি ২.২ হেক্টরের এনক্লোজার থেকে জঙ্গলের রাস্তা খুলে দেওয়া হয়, যাকে পরিভাষায় বলে ‘হার্ড রিলিজ’। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অবশ্য বাঘিনিটি এনক্লোজারেই ছিল।
রাজ্য বন দপ্তর প্রথমে জানিয়েছিল, বাঘিনিটি মাস কয়েক এনক্লোজারে থাকবে, পরে ছাড়া হবে, যাকে বলে ‘সফট রিলিজ’। বাল্মীকি থেকে বক্সা, রাজ্যের প্রথম বাঘ পুনঃপ্রবর্তন প্রকল্পের প্রবীণ বিজ্ঞানী কামার কুরেশি বলেন, ২০০৮ সালে রাজস্থানের সরিস্কায় দেশের প্রথম প্রকল্পে বা পান্নায় সফট রিলিজ হয়েছিল, কারণ তখন সবই শেখার পর্যায়ে; গত দেড় যুগে প্রায় ১৩টি পুনঃপ্রবর্তনে দেখা গেছে, দুই জঙ্গলের পরিবেশ মিল থাকলে এবং শিকারপ্রাণী ও নিরাপত্তা যথেষ্ট হলে হার্ড রিলিজ করা যায়।
কুরেশির ভাষ্যে, বক্সায় শিকারযোগ্য প্রাণীর ঘনত্ব আর সার্বিক নিরাপত্তা আগের চেয়ে ভালো হয়েছে, তাই ধাপে ধাপে হার্ড রিলিজ করা হয়েছে। তবে এনক্লোজারের গুরুত্ব কমছে না: ভবিষ্যতে নতুন বাঘ আনা হলে বা অসুস্থতা কিংবা রেডিও কলারের সমস্যায় এই বাঘিনিকে ফিরিয়ে আনতে হলে সেখানেই রাখা হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় তিন বছরের বাঘিনিটি বাল্মীকিতে মূলত বুনো শুয়োর শিকার করেছে, কখনো গবাদিপশু মারেনি; টোপ হিসেবে রাখা বাছুরের কাছে ফিরে আসার পর ঘুমপাড়ানি গুলিতে তাকে ধরা হয়। বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভের ফিল্ড ডিরেক্টর গৌরব ওঝা বলেন, সেখানে তার ঘোরাফেরার এলাকা ছিল মোটামুটি ২৫ থেকে ৩৫ বর্গকিলোমিটার, জঙ্গলের বাইরে সে শিকার করেনি, আর বক্সা ও বাল্মীকির জঙ্গলের চরিত্র অনেকটা একই রকম।
বক্সায় প্রচুর চিতাবাঘ আছে; তাদের সঙ্গে সংঘাতের প্রশ্নে ওঝার মন্তব্য, বাঘ এলে দুশ্চিন্তা চিতাবাঘেরই, তারাই বাঘের এলাকা এড়িয়ে চলে। বাঘিনির নজরদারি, তাকে নিজের মতো থিতু হতে দেওয়া এবং শুরুতেই মানুষের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে বক্সা ও আশপাশে পর্যটন বন্ধের নির্দেশ ৩ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে।
ছবি: Luis Miguel Bugallo Sánchez (Lmbuga) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)