সরকারি অর্থ যখন সীমিত, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃষি গবেষণাকে কীভাবে বড় পরিসরের ব্যবসায় রূপ দেওয়া যায়, সেই প্রশ্ন নিয়ে বৃহস্পতি ও শুক্রবার ব্রাসেলসে বসেছিলেন ইইউ কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, বেসরকারি সংস্থা ও কৃষকেরা। খবরটি দিয়েছে এজিফান্ডনিউজ।
ইউরোপীয় কমিশন আয়োজিত এই সম্মেলনের নাম এগ্রি ২০৪০ (EU AgRI 2040)। কৃষি, বনায়ন ও গ্রামীণ এলাকার জন্য কমিশন ৮ সেপ্টেম্বর যে গবেষণা ও উদ্ভাবন কাঠামো গ্রহণ করেছে, তার ওপর মতামত নেওয়া হয় সেখানে। কাঠামোটিতে আটটি কর্মক্ষেত্র রয়েছে: মাটির স্বাস্থ্য ও প্রাণিকল্যাণ থেকে গ্রামের জনমিতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত। কমিশনের ভাষায় এগুলো শুরুর বিন্দু, অংশীজনদের মত অনুযায়ী বদলাতে পারে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, জলজ চাষ ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আলাদা কিন্তু সংযুক্ত আরেকটি রূপরেখা আছে, ফুড ২০৪০।
কমিশনের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের মহাপরিচালক এলিজাবেথ ভের্নার (Elisabeth Werner) বলেন, উদ্ভাবনে ইউরোপ কোনো মহাদেশের চেয়ে পিছিয়ে নেই, কিন্তু সেই উদ্ভাবন মাঠে প্রয়োগ পর্যন্ত পৌঁছায় না। গতির উদাহরণ চাইলে চীনের দিকে তাকাতে বলেন তিনি।
কৃষি কমিশনার ক্রিস্টফ হানসেন (Christophe Hansen) কৃষি বাজেটের ওপর বড় চাপের কথা বলেন। তিনি হরাইজন ইউরোপ গবেষণা কর্মসূচি আর অভিন্ন কৃষি নীতির (সিএপি) মধ্যে যোগসূত্র জোরদার করার আহ্বান জানান; সিএপির ২০২৮-২০৩৪ সালের বাজেট নিয়ে এখন দর-কষাকষি চলছে। প্রস্তাবিত ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ইউরোর ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা তহবিল এবং হরাইজনের প্রস্তাবিত ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ইউরো মিলে কৃষিসহ বিভিন্ন খাতের উদ্ভাবনে ৪০ হাজার ৯০০ কোটি ইউরো পাওয়া যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। হানসেন জানান, উদ্যোক্তারা তাঁকে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রে বাজারে পৌঁছাতে এক-দুই বছর লাগে, ইউরোপে প্রায় দশ বছর, তাই তাঁরা সেখানে চলে যাচ্ছেন।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিয়ে অভিযোগ বারবার উঠেছে। ফিনল্যান্ডের এক কৃষক জানান, ইইউর একটি সনদের জন্য তাঁকে তিন-চারটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে লেগেছে একটি। রোমানিয়ায় ৯২০ হেক্টরের পারিবারিক খামার চালান এবং নারী কৃষকদের সংগঠন এএনএফএর নেতৃত্ব দেন ইউলিয়া ব্লাগু (Iulia Blagu)। তিনি বলেন, তাঁর খামারে যা কিছু আসে তা আসে অনেক দেরিতে ও অনেক দামে; দীর্ঘ খরার বছরগুলোতে গত ছয় বছরের নতুন সমাধানগুলো তাঁর নাগালে ছিল না।
স্টার্টআপ, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক কমিশনার একাতেরিনা জাহারিয়েভা (Ekaterina Zaharieva) বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত ইউরোপীয় উদ্ভাবকদের কাছ থেকে বেশি কেনা, যাতে প্রথম সরকারি চুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা দেয়। আয়ারল্যান্ডের কৃষি, খাদ্য ও সামুদ্রিক বিভাগের প্রধান পরিদর্শক বিল ক্যালানান (Bill Callanan) বলেন, কোম্পানিগুলো যেখানে নিজেদের প্রক্রিয়া পরীক্ষা করতে পারে, এমন প্রদর্শনী সুবিধা বাড়িয়ে সরকার সাহায্য করতে পারে; গবেষকদেরও কারিগরি প্রতিবেদনের বাইরে কথা পৌঁছাতে হবে।
নতুন পণ্যের চাহিদা তৈরির কথাও উঠেছে। ইআইটি ফুডের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড জাল্টজম্যান (Richard Zaltzman) বলেন, গ্রহণযোগ্যতার জন্য পুরো মূল্য শিকলে একসঙ্গে উদ্ভাবন দরকার। কমিশনের গবেষণা বিভাগের জেমস মরিসন (James Morrison) বলেন, নিয়মকানুনও বাজার তৈরি করে, আর পরীক্ষামূলক নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার (রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স) পরিসর বাড়ালে স্টার্টআপ বড় হতে পারবে। কৃষকের পরীক্ষাটা সহজ করে বলেন ব্লাগু: গবেষণাগারে যা কাজ করে, তা দশটি খামারে ব্যর্থ হলে উত্তরটা পাওয়া গেল।
এজিফান্ডনিউজের পক্ষে প্রতিবেদনটি করেছেন রিচ বেলিস (Rich Bellis)।
ছবি: Karen Eliot / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)