পক্ষাঘাত, স্ট্রোক বা জটিল স্নায়ুরোগে কথা বলার শারীরিক ক্ষমতা হারালেও মস্তিষ্কে ভাষা ও ভাবনার প্রক্রিয়া সচল থাকে। সেই ভাবনাকে শব্দে রূপ দিতে কাজ করছেন আন্তর্জাতিক গবেষকেরা। ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) প্রযুক্তিতে মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম বৈদ্যুতিক স্পন্দন বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে কথার ধ্বনি পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে।
কেউ কোনো শব্দ উচ্চারণ করতে চাইলে মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট বৈদ্যুতিক তরঙ্গ তৈরি হয়। তা ধরতে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে অতি ক্ষুদ্র ইলেকট্রোড বসানো হয়, যা স্নায়ুকোষের সংকেত বাইরের কম্পিউটারে পাঠায়। দিনাজপুর টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্যারাড্রোমিক্সের বিসিআই যন্ত্রে আছে ৪২১টি মাইক্রোইলেকট্রোড, যা কথা বলা ও নড়াচড়ার সঙ্গে যুক্ত স্নায়ু-কার্যকলাপ ধরতে পারে।
রোগী মনে মনে শব্দ বা বাক্য বলার চেষ্টা করলে তখনকার মস্তিষ্ক-তরঙ্গ আর শব্দের সম্পর্ক ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত হয়। দীর্ঘ সময়ের উপাত্ত দিয়ে মেশিন লার্নিং মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে কম্পিউটার শেখে কোন সংকেত কোন ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত। পরে রোগী কথা বলার চেষ্টা করলেই সংকেত বিশ্লেষণ করে কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কথা তৈরি করে। ২০২৫ সালের এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রতি ৮০ মিলিসেকেন্ডে সংকেত বিশ্লেষণ করে প্রায় তাৎক্ষণিক কথা তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল।
আগের অনেক যন্ত্রে মস্তিষ্কের সেন্সর থেকে বাইরের কম্পিউটারে তার লাগত, রোগীকে যন্ত্রের সঙ্গে বাঁধা থাকতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় সংকেত প্রথমে বুকের ভেতরে বসানো ছোট ট্রান্সসিভারে যায়, সেখান থেকে তারবিহীনভাবে বাইরের রিসিভারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা মানুষের শরীরে এই সমন্বিত যন্ত্র প্রতিস্থাপন করে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, উদ্ভাবনটি এখনো মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রাথমিক ধাপে; সাধারণ রোগীর জন্য এটি এখনো প্রচলিত বা বাজারে পাওয়া চিকিৎসা নয়। তবে কথা হারানো মানুষের স্বাধীন যোগাযোগের বড় অবলম্বন হয়ে উঠতে পারে এটি।
ছবি: PaulWicks / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন) (ব্রেনগেট মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ ব্যবস্থা)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)