করোনা, ব্রুসেলোসিস, বার্ড ফ্লু, ইবোলা, স্ক্রাব টাইফাস, অ্যানথ্রাক্স, জলাতঙ্ক, লেপটোস্পাইরোসিস: এমন বহু প্রাণঘাতী রোগ মানুষের দেহে আসে প্রাণী ও পরিবেশ থেকে। এই সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ‘ওয়ান হেলথ’ কমিটি গড়ার নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর, জানিয়েছে কলকাতার সংবাদ প্রতিদিন।
ওয়ান হেলথ ধারণার মূল কথা, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসক দিয়ে রোগ পুরোপুরি ঠেকানো যায় না; চিকিৎসকের সঙ্গে পশুচিকিৎসক, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মিলিত পদক্ষেপ লাগে। যেমন ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া ঠেকাতে মশার বংশবিস্তার, পানি জমা, আবহাওয়া ও পরিবেশের পরিবর্তনের ওপরও নজর রাখতে হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোগ শুধু পশু-পাখি থেকে নয়, কৃষিজ শাকসবজি ও পরিবেশ থেকেও আসে।
নতুন কমিটিতে থাকবেন জেলাশাসক, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর, জেলার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পৌরসভার কর্মকর্তা, জেলা পরিষদের প্রতিনিধি ও গ্রামোন্নয়ন কর্মকর্তা।
রাজ্যের প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ভাইরাস বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ জোয়ারদার সিদ্ধান্তটিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এই কমিটির মাধ্যমে ফলখেকো বাদুড় থেকে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের মতো জুনোটিক রোগ বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের আশঙ্কা ঠেকানো সম্ভব হবে।
তিনি মনে করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক স্তরে এই ভাবনার শুরু এই শতাব্দীর গোড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি একসঙ্গে এ নিয়ে কাজ করে; সার্স, মার্স, ইবোলার পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়, আর করোনা মহামারি ওয়ান হেলথের প্রয়োজন অনিবার্য করে তুলেছে।
প্রতিবেদনটি সংবাদ প্রতিদিনের তিয়াসা সরকারের।
ছবি: Guérin Nicolas / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0) (ভারতীয় ফলখেকো বাদুড়)
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন





মন্তব্য
(০)