বাংলাদেশ জুটমিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) দীর্ঘদিন বন্ধ পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা। এরই মধ্যে লিজ দেওয়া ১৭টি পাটকলের ৯টিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে, কাজ পেয়েছেন প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জন।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা চুক্তি হয়েছে: প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ পেয়েছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস ও খুলনার স্টার জুট মিলস, আর হ্যামকো গ্রুপ পেয়েছে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস। তিন মিলে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ, কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান এবং বছরে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা আয়ের আশা করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি এবং খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা; প্রতিটিতে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কাজের সুযোগ ও বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য। খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলীতে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কাজ হবে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি ও পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল লিজের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ জানান, সংস্থার ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে লিজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ১৭টির লিজ সম্পন্ন। ডেমরার করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বেজার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায়, দুটি নিয়ে মামলা চলছে, আর ফেরত পাওয়া সীতাকুণ্ডের আমিন জুটমিলে ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন শুরু হতে পারে।
২০২০ সালের ১ জুলাই লোকসানের কারণে বিজেএমসির ২৫টি পাটকল বন্ধ করে প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে পাওনা পরিশোধ করা হয়েছিল। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, স্বচ্ছ দরপত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে; পাটপণ্যে বিনিয়োগে ঋণসহ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশে পাটের ব্যবহার বাড়ে এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে। মিল চালু হলে পাটচাষিদের পাটের চাহিদাও বাড়তে পারে।
ছবি: Mahinur11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: নাগরিক টিভি



মন্তব্য
(০)