রাজধানীর অলিগলিতে বিক্রি হওয়া বিরিয়ানিতে স্বাদ ও রং বাড়াতে কাপড়ের রং, কেওড়া জল এবং ট্যানারিতে চামড়া সংরক্ষণে ব্যবহৃত লবণ মেশানো হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানের বরাতে জানিয়েছে দিনাজপুর টিভি।
পুরান ঢাকার মসলার বাজারে কেওড়া জল প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর একে খাবারের অনুপযোগী ঘোষণা করলেও বিক্রি থামেনি।
খাবারের উপযোগী ফুড গ্রেড রঙের দাম প্রায় ১,৫০০ টাকা। তার বদলে বিরিয়ানির দোকানগুলো কিনছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার কাপড়ের রং, বাজারে যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কস্তুরি রং’। বিক্রেতারা স্বীকার করেছেন, নামী বিরিয়ানির দোকানও এই রঙের ক্রেতা।
সাধারণ লবণের বদলে ব্যবহার হচ্ছে মোটা লবণ, যার বড় অংশ ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে আসে ট্যানারি থেকে: গরুর চামড়া সংরক্ষণের পর ঝেড়ে নেওয়া লবণ পরিষ্কার করে বাজারে বিক্রি হয়। প্যাকেটজাত লবণের কেজি যেখানে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, এই লবণ মেলে ১৬ টাকায়। পুরান ঢাকার এক রেস্তোরাঁয় পোড়া তেল, কেওড়া জল ও সেই মোটা লবণ পাওয়া গেছে; এক বিক্রেতার দাবি, লবণটি মাছ ধোয়ায় লাগে, কিন্তু এক বাবুর্চি স্বীকার করেছেন খাবারেই এটি দেওয়া হয়।
পুষ্টিবিদরা সতর্ক করেছেন, এমন উপাদান মেশানো খাবার দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে, শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি। এক পুষ্টিবিদ জানান, এসব মোটা লবণে আয়োডিন থাকে না, আর আয়োডিনের অভাবে শিশুদের মেধাবিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। কম দামে মুখরোচক খাবারের নামে এসব মেশানোয় ভোক্তারা অজান্তেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
প্রতিবেদনটি দিনাজপুর টিভির ডেস্ক প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: ANKAN / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)