সঙ্গী হারানোর পর একই ডালে বসে থাকা বা বারবার ডাকতে থাকা পাখি দেখলে প্রশ্ন জাগে, সে কি কষ্ট পাচ্ছে? গবেষকেরা বলছেন, পাখির অনুভূতি আছে এমন দাবির যথেষ্ট প্রমাণ আছে, তবে সব অনুভূতিকে মানুষের অনুভূতির হুবহু প্রতিরূপ ভাবা ঠিক নয়।
২০১৯ সালে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় পাখির ভয় ও হতাশা-সদৃশ প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হয়। আচরণ, শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া ও পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখে বিজ্ঞানীরা আবেগের সম্ভাব্য প্রকাশ বোঝার চেষ্টা করছেন।
অনেক প্রজাতি প্রজনন মৌসুমে জুটি বাঁধে, কোনোটি একই সঙ্গীর সঙ্গে একাধিক মৌসুম কাটায়। সঙ্গী মারা গেলে বা হারিয়ে গেলে কিছু পাখির মধ্যে ডাকাডাকি, পরিচিত জায়গায় থেকে যাওয়া ও অস্থিরতা দেখা যায়। একে কখনো শোকের মতো প্রতিক্রিয়া বলা হলেও প্রাণী বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি সঙ্গীকে খোঁজা বা অনুপস্থিতির অস্থিরতাও হতে পারে।
কোনো কোনো প্রজাতি আগের সঙ্গী জীবিত থাকতেও পরের মৌসুমে নতুন সঙ্গী বেছে নেয়। জীববিজ্ঞানে একে সঙ্গী পরিবর্তন বা ডিভোর্স বলা যায়। কারণ হতে পারে আগের প্রজননে ব্যর্থতা, নতুন সঙ্গীর প্রাপ্যতা বা পরিবেশ। এর পেছনে অভিমান কাজ করে কি না, তার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
ছানা ফেলে যাওয়াও ঘটে। বাসা নষ্ট হলে, খাবারের অভাব হলে, মা-বাবার একজন মারা গেলে বা শিকারির আক্রমণে ছানার বাঁচার সম্ভাবনা কমলে কোনো কোনো পাখি যত্ন বন্ধ করে বাসা ছাড়ে। তবে একে ভালোবাসার অভাব বলা যায় না, আবার সব ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার কৌশল বলে ব্যাখ্যাও করা যায় না।
কম খাওয়া বা অস্বাভাবিক চুপচাপ থাকার কারণ হতে পারে ভয়, অসুস্থতা, পরিবেশগত চাপ অথবা সঙ্গীর অনুপস্থিতি, একটি লক্ষণ দেখে মনের অবস্থা নিশ্চিত বলা যায় না। এ জ্ঞান বন্য পাখির আবাসস্থল রক্ষা ও পোষা পাখির পরিচর্যায় কাজে লাগতে পারে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন খায়রুল বাশার আশিক।
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪


মন্তব্য
(০)