সুনামগঞ্জের হাওরে লাখো মানুষের জীবিকা এক ফসলি বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল। এই অঞ্চলের কৃষকের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনভিত্তিক গবেষণা চালাচ্ছে এবং নিজেদের উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্র। অঞ্চল উপযোগী জাত বিদ্যমান শস্যবিন্যাসে আরও বেশি যুক্ত করতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
বিনা পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের জাত উন্নয়ন করে। উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শেফাউর রহমান জানান, বিনা এ পর্যন্ত ১৩৯টি জাত উদ্ভাবন করেছে, যার ৯৬টি মিউটেশন পদ্ধতিতে। সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাত উন্নয়নে বিশ্বে বিনার অবস্থান এখন অষ্টম।
সুনামগঞ্জে কৃষকদের এক কর্মশালায় বিনা ময়মনসিংহের পরিচালক (গবেষণা) ড. মাহবুবা কানিজ হাসনা বলেন, গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালী করতে কৃষকদের নিয়ে প্রকল্প চলছে। বিনা ধান-২৪, বিনা ধান-২৫, বিনা ধান-১৯, বিনা সরিষা-১১, বিনা চিনাবাদাম-৪ ও বিনা চিনাবাদাম-৮সহ অঞ্চল উপযোগী জাত চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
হাওরের কৃষির প্রধান সমস্যা হিসেবে পানির সংকটের কথা বলেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন; সঙ্গে আছে কৃষিযন্ত্র, বীজ ও অন্যান্য উপকরণের ঘাটতি এবং জমির মালিকানা ও বর্গাচাষের জটিলতা। তাঁর মতে, এসব সমস্যা ধরে কৃষকের প্রয়োজনমতো প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সরবরাহ করতে হবে এবং অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার সুযোগ আছে। মো. আমজাদ হোসেন রাসায়নিক সারের নির্ভরতা কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার, খাল খনন এবং কৃষক কার্ড ও ভর্তুকি জোরদারের ওপর জোর দেন।
বিনার গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদার বলেন, উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি আরও ব্যাপকভাবে কৃষকের কাছে নিতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও কৃষকের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।
শান্তিগঞ্জের ধনপুর গ্রামের সৈয়দুল ইসলাম জানান, তাঁদের উপজেলায় অনেকে বিনার পদ্ধতিতে ধান চাষ করে লাভবান হয়েছেন, তাই আরও প্রশিক্ষণ দরকার। সদর উপজেলার বড়ঘাট গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, প্রতিবছর অকাল বন্যায় হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যায়; বিনার পদ্ধতিতে চাষের সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে কৃষকেরা উপকৃত হবেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির মধ্যে বিনা অন্যতম।
প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সুনামগঞ্জ থেকে পাঠানো বিশেষ প্রতিবেদন।
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)