কানাডার পার্লামেন্টের শরৎকালীন অধিবেশনে সরকারের আনা প্রথম বিলে কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিধান রয়েছে: প্রেইরি অঞ্চলে সম্প্রসারিত রেল ইন্টারসুইচিংয়ের মেয়াদ বাড়ানো এবং অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠা শ্রমবিরোধ থামানোর নতুন কাঠামো। কৃষি সংবাদমাধ্যম ফার্মস ডটকম এ খবর দিয়েছে।
বিল সি-৩৯, অর্থাৎ বিল্ডিং কানাডা স্ট্রং অ্যাক্টের মূল লক্ষ্য অবকাঠামো প্রকল্পের পর্যালোচনা দ্রুত করা। এর ভেতরেই আলবার্টা, সাসকাচুয়ান ও ম্যানিটোবায় ১৬০ কিলোমিটারের সম্প্রসারিত ইন্টারসুইচিং আরও চার বছর চালু রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইন্টারসুইচিং মানে এক রেল কোম্পানির মালবাহী ট্রাফিক আরেক কোম্পানির কাছে হস্তান্তর; দূরত্বসীমা বেশি হলে শস্য কোম্পানির মতো পরিবহন-গ্রাহকেরা একাধিক রেল কোম্পানির সঙ্গে দর-কষাকষি করতে পারে।
সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য সম্পর্ক থাকলেই কেবল এই সুবিধা কার্যকর হবে, কারণ বিএনএসএফের মতো মার্কিন রেল কোম্পানিও ইন্টারসুইচিংয়ের সুবিধা পায়। ২০২৫ সালের নির্বাচনী প্রচারে লিবারেলরা এই পাইলট কর্মসূচি তিন বছর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হার্পারের সময়ে এটি আইন হয় এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পার্লামেন্ট স্থগিত হওয়া পর্যন্ত বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
দ্বিতীয় বিধানটি কানাডা লেবার কোডের ১০৭ ধারা নিয়ে, যা শ্রমমন্ত্রীকে কাজ বন্ধের অবসান ঘটানোর ক্ষমতা দেয়। সি-৩৯ অনুযায়ী মন্ত্রী এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন কেবল তখন, যখন একজন বিশেষ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ পেয়ে দায়িত্ব শেষ করে প্রকাশ্য প্রতিবেদন দেবেন, মন্ত্রী তা বিবেচনা করবেন এবং মনে করবেন যে ধর্মঘট বা লকআউট জাতীয়ভাবে গুরুতর ক্ষতি ডেকে আনবে।
এ ধরনের বিরোধে কৃষি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে গ্রেইন গ্রোয়ার্স অব কানাডা হিসাব দিয়েছিল, সিএন ও সিপিকেসি রেলে কাজ বন্ধে শস্যচাষিদের দিনে ৫ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হচ্ছিল; পরের মাসে ভ্যাঙ্কুভার বন্দরের শস্যকর্মীরা চার দিন ধর্মঘট করেন। প্রতিবেদনটি লিখেছেন ডিয়েগো ফ্লামিনি।
ছবি: Rene Gourley / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)