দক্ষিণ আফ্রিকায় খাবারের দাম এখন খুব ধীরে বাড়ছে, কিন্তু তাতে স্বাস্থ্যকর খাবার সাশ্রয়ী হয়নি, আর কৃষকেরা যথেষ্ট আয় করছেন, এমন নিশ্চয়তাও নেই। ব্যুরো ফর ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল পলিসি (বিএফএপি) ও আবসা অ্যাগ্রিবিজনেসের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে এ কথা জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা।
আগস্টে খাদ্য ও অ্যালকোহলমুক্ত পানীয়ের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১.১ শতাংশ, জুলাইয়ে ০.৯ শতাংশ; সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৪.৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছ ও সামুদ্রিক খাবারের দাম, ৭.৫ শতাংশ; এরপর পানীয় ৪.৯, তেল ও চর্বি ২.৬, দুধ ও ডিম ২.১, চিনি ২ এবং মাংস ১.৫ শতাংশ। সবজি এক বছর আগের চেয়ে ০.৬ শতাংশ, শস্যপণ্য ১.৯ শতাংশ আর ফল ও বাদাম ৫.৫ শতাংশ সস্তা। পরিবারের খরচে মাংসের ভার অনেক বেশি বলে কম হারে বাড়লেও খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে মাংসের অবদান প্রায় ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট, মাছের দ্বিগুণ।
দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই শিশুর পরিবারের জন্য বিএফএপির ২৬ পণ্যের মৌলিক স্বাস্থ্যকর খাবারের ঝুড়ির দাম আগস্টে ছিল ৩ হাজার ৯৩৫ র্যান্ড, জুলাইয়ের চেয়ে প্রায় ৩০ র্যান্ড কম। শুধু পর্যাপ্ত ক্যালরির, বৈচিত্র্যহীন খাবারের ঝুড়ির দাম ১ হাজার ১৫৫ র্যান্ড; অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর ঝুড়ি প্রায় ৩.৪ গুণ দামি। দুজন পূর্ণকালীন ন্যূনতম মজুরি ও দুটি শিশু ভাতায় চলা পরিবারের হিসাবকৃত আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ যায় স্বাস্থ্যকর ঝুড়িতে; একজনের মজুরিতে চললে প্রায় ৫৫ শতাংশ।
ধীর মূল্যস্ফীতি আগের দাম বৃদ্ধিকেও ফিরিয়ে দেয় না। ২০২৩ সালের মার্চে খাদ্য ও পানীয়ের মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪ শতাংশ, আর ২০১৬ সালের খরায় শুধু খাদ্যের মূল্যস্ফীতি গড়ে ১০.৮ শতাংশ। ভুট্টার আটা ও চাল সস্তা হওয়ায় সংসারের খরচে স্বস্তি এলেও টিনজাত মাছ, রান্নার তেল ও কিছু সবজির বাড়তি দাম পরিবারের খাবারের বৈচিত্র্য কমিয়ে দিতে পারে।
খামারের দরজায় চিত্র ভিন্ন। আগস্টে টানা দ্বিতীয় মাস ভুট্টার দাম বেড়েছে, যদিও এক বছর আগের চেয়ে কম; রপ্তানি সমতা দাম বাড়া এর পেছনে, আর শক্তিশালী র্যান্ড, ভালো ফলন ও বড় মজুত দাম ঠেকিয়ে রেখেছে। বেশি মজুতে টমেটোর দাম চাপে, পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করছে ব্যাপকভাবে। প্রচুর সরবরাহ ও পণ্যের কম দাম কৃষকের লাভ কমিয়ে দিতে পারে। প্রতিবেদন মনে করিয়ে দেয়, খামার ও খুচরা দামের ফারাকের পুরোটা মুনাফা নয়; প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, মোড়ক, হিমায়ন, অপচয় ও খুচরা খরচও আছে।
বিএফএপি আশা করছে, সামনের মাসগুলোতে খাদ্যপণ্যের দাম মাঝারি থাকবে, তবে দাম বাড়ার ঝুঁকিও আছে। প্রতিবেদনের মতে, খাবার সাশ্রয়ী রাখতে পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা আর টিকে থাকার মতো খামার, দুটোই দরকার।
ছবি: Husskeyy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)