পান কি সবজি জাতীয় ফসল, নাকি আলাদা পণ্য, এই প্রশ্নে দুই রপ্তানিকারক সংগঠনের প্রায় দুই যুগের বিরোধ মেটার পর পানের রপ্তানি বাড়ছে। রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বাধা দূর হলে বিশ্ববাজারে বছরে এক হাজার কোটি টাকার বেশি পান ও পানজাত পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা আছে। আজকের পত্রিকার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কৃষিবিষয়ক পোর্টাল চাষাবাদ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের শ্রেণিবিন্যাসে পান উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল। আশির দশক থেকে পান রপ্তানি হতো ফল ও সবজি রপ্তানিকারক সমিতির আওতায়, সবজির উপজাত হিসেবে। ২০০৩ সাল থেকে ‘পান রপ্তানিকারক সমিতি’র মাধ্যমে আলাদা পণ্য হিসেবে রপ্তানি শুরু হয়। সমিতির দাবি, ২০০২ সালে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র চার কোটি টাকার পান, পরের বছর তা প্রায় ২০০ কোটি টাকায় ওঠে।
পান রপ্তানিকারক সমিতির অভিযোগ, বিদেশে প্রতি কেজি পানের দাম ৫ থেকে সাড়ে ৬ ডলার হলেও কিছু ব্যবসায়ী কাস্টমসে ১ দশমিক ২০ ডলারের সবজি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রপ্তানি করতেন, এতে রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ পাচার হতো। অভিযুক্ত পক্ষের স্বপন সরকার এসব অভিযোগ কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন; তাঁর দাবি, সমিতির প্রত্যয়নপত্র কাস্টমসের কাজে লাগে না, এটি বাক্সপ্রতি ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা চাঁদা আদায়ের বাহানা।
২০০৩ সালে ফল, সবজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানিকারকদের সংগঠন পানকে নিজেদের আওতাভুক্ত দাবি করে মামলা করে; এরপর পান রপ্তানিকারক সমিতির বিরুদ্ধে ১০টির বেশি মামলা হয়। ২০২৩ সালে আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ে দুই সমিতিকে আলাদা সত্তা বলে জানায়। পান সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন সিকদার বলেন, রায়ের পর তাঁরা আবার কাজ শুরু করেছেন। ফল ও সবজি রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মনসুরও বলেছেন, তাঁরা চান পান রপ্তানিকারকেরা অবাধে ব্যবসা করুন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পান রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৯৬ টন, তিন বছর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ছিল ৩ হাজার ৬৫৯ দশমিক ৭১২ টন। সবচেয়ে বেশি যায় সৌদি আরবে, গত চার অর্থবছরে গড়ে বছরে সাড়ে তিন হাজার টনের বেশি; কানাডা, ফ্রান্স ও ইতালিতেও অল্প পরিমাণে যায়। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, উৎপাদন ও বাজারজাত প্রক্রিয়া ভালো হওয়ায় রপ্তানি বাড়ছে, মানও উন্নত হয়েছে।
রপ্তানিকারকদের হিসাবে এখন মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপে ২০০ কোটি এবং পাকিস্তানে ৩০০ কোটি টাকার বাংলাদেশি পানের বাজার আছে; প্রবাসী বাঙালি অধ্যুষিত ৩৩টি দেশে চাহিদা রয়েছে। পানের রস ও তামাকমুক্ত মাউথ ফ্রেশনারের মতো পানজাত পণ্য তৈরির সুযোগও দেখছেন তাঁরা। কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, মানসম্মত পানের রপ্তানি বাড়াতে সরকারের উচিত উদ্যোক্তাদের নীতিসহায়তা দেওয়া।
প্রতিবেদনটি চাষাবাদে প্রকাশিত, আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Md. Shahnoor Habib / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: চাষাবাদ





মন্তব্য
(০)