অস্ট্রেলিয়ার শীতের ফসল এবার গত মৌসুমের রেকর্ড-ছোঁয়া ফলনকে (দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম) ছুঁতে পারবে না, তবে উৎপাদন থাকবে ঐতিহাসিকভাবে উঁচু স্তরে। কৃষি ব্যাংক রাবোব্যাংকের ২০২৬-২৭ মৌসুমের পূর্বাভাসে মোট উৎপাদন ৬ কোটি ২৯ লাখ টন, যা গতবারের চেয়ে ৭.৯ শতাংশ কম, কিন্তু পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে ২.৬ শতাংশ বেশি।
রাবোরিসার্চের জ্যেষ্ঠ শস্য ও তেলবীজ বিশ্লেষক ভিটর পিস্তোইয়া (Vitor Pistoia) বলেন, এবার উৎপাদন বেশি কেন্দ্রীভূত দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমে। উত্তর-পূর্ব উপকূলে গড়ের কম বৃষ্টিতে কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে উৎপাদন কমছে, আর ভালো আর্দ্রতা ও ফলনে বাড়ছে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়ায়। কুইন্সল্যান্ডে ফসল ৪৭.৬ শতাংশ কমে ২০ লাখ ৩০ হাজার টন, নিউ সাউথ ওয়েলসে ২৬.৩ শতাংশ কমে ১ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার টন হবে বলে পূর্বাভাস; ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় ১৩.৩ শতাংশ কমে ২ কোটি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টন হলেও তা গড়ের ওপরে, আর সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় ৪৩.৭ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টন হতে পারে।
চাষিরা গম দেবেন ৩ কোটি ১০ লাখ টন, যা গতবারের চেয়ে ১৩.৩ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে ৯.৭ শতাংশ কম। যব ১ কোটি ৬৫ লাখ টন, ১.২ শতাংশ কম হলেও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম যবের ফলন; ডালশস্য ৫৫ লাখ টন, ১২.৯ শতাংশ কম। উল্টো পথে ক্যানোলা: ৫.৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৮১ লাখ টন, যার ৫৯ শতাংশ আসবে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া থেকে, যেখানে ক্যানোলার জমি বেড়েছে ৪১ শতাংশ।
রাবোব্যাংক বলছে, বৈশ্বিক রপ্তানি সরবরাহে ভূরাজনৈতিক বিঘ্নের কারণে শস্যের দাম মোটামুটি চড়া, তবে সার, ডিজেল, কৃষি রাসায়নিক ও পরিবহনের উচ্চ খরচে চাষির লাভ চাপে আছে। কৃষ্ণসাগরের বন্দরে বিঘ্নে গমের বাণিজ্য কমেছে ও জাহাজভাড়া বেড়েছে; এতে কম সমুদ্রপথের সুবাদে এশিয়ার বাজারে অস্ট্রেলিয়ার পরিবহন সুবিধা বেড়েছে।
পিস্তোইয়ার মতে, এল নিনো ইতিমধ্যে উত্তর-পূর্ব উপকূলের গম উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে; ২০২৭ সালেও প্রভাব পড়লে ২০১৮-২০২০ সালের মতো পশ্চিম ও দক্ষিণ থেকে পূর্বের পশুখাদ্যের বাজারে শস্য যেতে পারে, তাতে পূর্বাঞ্চলে গমের দাম শক্ত হতে পারে। এল নিনোতে পূর্ব উপকূলে সরগামও কমলে সেখানে যবের দাম আন্তর্জাতিক দামের ওপরে উঠতে পারে।
ডালশস্যে বিশ্বে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম আটকে আছে, তবে অস্ট্রেলিয়ায় ছোলার ফলন কম হওয়ায় ছোলা বাড়তি দাম পাচ্ছে। তেলবীজে বৈশ্বিক চাহিদা উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যাবে এবং জৈব জ্বালানির চাহিদা ক্যানোলার দামকে সহায়তা দেবে বলে তাঁর ধারণা।
ছবি: Gregory Heath, CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Beef Central



মন্তব্য
(০)