ফিনোটাইপিং, জিনোমিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও দ্রুত প্রজনন (স্পিড ব্রিডিং) প্রযুক্তি মিলিয়ে তৈরি তাপসহিষ্ণু মসুরের লাইন অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার মাঠ পরীক্ষায় গেছে। শস্য গবেষণা ও উন্নয়ন করপোরেশনের (জিআরডিসি) অর্থায়নে প্রকল্পটির নেতৃত্বে অ্যাগ্রিকালচার ভিক্টোরিয়ার ড. সুখজীবন কৌর।
লক্ষ্য তাপমাত্রা বাড়ার মধ্যেও মসুরকে সহনশীল রাখা এবং আবাদের এলাকা বাড়ানো। কৌর বলেন, "তাপসহিষ্ণু জাত তৈরি করতে পারলে বড় অর্থনৈতিক লাভ হবে।" পাঁচ বছরের কাজের পর প্রায় ২০০টি লাইন ভিক্টোরিয়ার হর্শাম ও মিলডুরা, নিউ সাউথ ওয়েলসের নারাব্রি এবং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মেরেডিনে পরীক্ষা হচ্ছে; আরও ৫০টি লাইন পরীক্ষা হচ্ছে সাউথ অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ও কুইন্সল্যান্ডের এমারাল্ডের মতো বেশি গরম এলাকায়।
২০২২ সালে অস্ট্রেলীয় শস্য জিনব্যাংকের উপাদানসহ ৫০০-র বেশি লাইন দিয়ে কাজ শুরু হয়, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বপন করে পরীক্ষা চালানো হয়। সেরাগুলোকে হর্শাম স্মার্টফার্মে তিন দিনের তাপপ্রবাহ তৈরি করা জলবায়ু-নিয়ন্ত্রিত চেম্বারে যাচাই করা হয়। গবেষকেরা এমন গাছ খুঁজেছেন, যা আগেভাগে ফুল ফুটিয়ে তাপ এড়ায় না, বরং তাপ সয়ে শুঁটি ধরে রাখে।
ড. আইরিন ফন ডেন বার্গের জিনোমিক বিশ্লেষণ জিনগত চিহ্নকে ফলন ও সহনশীলতার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত করে এবং অপরীক্ষিত এলাকায় ফুল আসার সময় আগাম জানায়, ফলে পরীক্ষা ছাড়াই স্থানীয়ভাবে উপযোগী লাইন বাছা যায়। এআই-চালিত একটি ব্যবস্থা সম্ভাব্য সব সংকরায়ণ অনুকরণ করে প্রক্রিয়া দ্রুত করে।
বাছাই করা লাইন যায় ড. শাহিন ইয়াজদিফারের দ্রুত প্রজনন কর্মসূচিতে, যেখানে তাপমাত্রা, আলো ও পুষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে আগে ফুল আনা হয় এবং কঠিন সংকরায়ণ থেকে বংশধর বাঁচাতে ‘এমব্রায়ো রেসকিউ’ ব্যবহার করা হয়। কম ফলনের কিছু লাইনের তাপে স্থিতিশীলতাকে বেশি ফলনের সম্ভাবনার সঙ্গে মেলাতে চান গবেষকেরা।
সূত্র: AgroPages



মন্তব্য
(০)