গরু পালন থেকে দোকানে মাংস পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের খরচ হিসাব রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের এক র্যাঞ্চার পরিবার তৈরি করেছে হার্ভেস্টপাথ নামের একটি ডিজিটাল লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্ম। কৃষি সাময়িকী ফার্ম প্রোগ্রেস জানিয়েছে, খামার ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কীভাবে ঢুকছে, এটি তার একটি উদাহরণ।
সমস্যাটা মাংস সরবরাহ শৃঙ্খলের মাঝের অংশে। দাম ঠিক করতে গেলে পশুর ক্রয়মূল্য, শ্রম, জ্বালানি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ফি, পশু থেকে কারকাসে ওজন কমে যাওয়া, হাড় ফেরত কেনা ও বর্জ্য অপসারণের খরচ ধরতে হয়; এরপর আছে পরিবহন, লেবেল, প্যাকেট, সংরক্ষণ, দোকানে পাঠানো আর অনলাইন বাজারের ফি। গরুর বাজার আর ডিজেলের দামের সঙ্গে এসব খরচ দ্রুত ওঠানামা করে। প্ল্যাটফর্মের সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্যারি রিচার্ডস বলেন, রাতারাতি জ্বালানির দাম বদলালে তাঁর পরিবহন খরচ ৩,০০০ ডলার থেকে ৪,০০০ ডলারে উঠে যেতে পারে; জেবিএস, টাইসন বা কারগিলের মতো পুরো শৃঙ্খলের মালিক না হলে এই হিসাব রাখা খুব কঠিন।
রিচার্ডস চতুর্থ প্রজন্মের র্যাঞ্চার এবং পারিবারিক খামার পরিচালনায় প্রথম নারী। ২০১৬ সালে খামারে ফিরে তিনি গাভী-বাছুর খামারে গরু মোটাতাজাকরণ যোগ করেন এবং রিচার্ডস রিজেনারেটিভ মিট কোম্পানি চালু করেন, যা সরাসরি ক্রেতার কাছে এবং পাইকারি দরে রেস্তোরাঁ ও সুপারমার্কেটে মাংস বিক্রি করে। ব্যবসা বড় করতে গিয়ে খরচের হিসাব হারিয়ে ফেলার সমস্যা থেকেই ভাই টমের সঙ্গে তিনি হার্ভেস্টপাথ তৈরি করেন। সেলসফোর্সের ডিজিটাল অবকাঠামোয় তৈরি প্ল্যাটফর্মটি প্রায় এক বছর ধরে চালু আছে।
রিচার্ডস জানান, মাঠ ফসলের কৃষকদের জন্য একটি সংস্করণ এখনো তৈরি হচ্ছে; তাতে উপকরণের দাম, যন্ত্রের ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ধরে ফলনের ভিত্তিতে একরপ্রতি লাভ হিসাব করা যাবে। দুগ্ধ খামারি ও বিশেষ ফসলের চাষিরাও নিজেদের উৎপাদন খরচ এতে রাখতে পারবেন। খরচ বাড়া-কমার সঙ্গে পণ্যের দাম ঠিক করতে প্ল্যাটফর্মে জেনারেটিভ এআই যুক্ত করা হচ্ছে।
কৃষিযন্ত্র নির্মাতা এজিসিওর বৈশ্বিক পূর্বাভাস বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অ্যাড্রিয়ান ক্রফোর্ড নিজেও মিনেসোটায় মাঠ ফসলের চাষ করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচ বছর ডেটা ও এআই নিয়ে কাজ করার সময় তিনি ট্রাক্টরে এআই-চালিত ভয়েস সহকারী যুক্ত করার কাজ তদারক করেছেন। কথা বলা ট্রাক্টরে কৃষকের মুখের প্রশ্ন একটি বড় ভাষা মডেলের নির্দেশে রূপ নেয়, আর মডেলটি কেবল তাকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া তথ্য থেকে উত্তর খুঁজে কৃষককে জানায়। ক্রফোর্ড বলেন, এআই ব্যবহারে এখন ডেটা বিজ্ঞানী হওয়ার দরকার নেই; তাঁর ৭৯ বছর বয়সী শ্বশুর এআই-যুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করছেন, যা তাঁর চাষাবাদ সহজ করেছে।
তবে ক্রফোর্ডের মতে, এআই প্রয়োগের শুরুটা হতে হবে কৃষকের প্রতিদিনের প্রয়োজন থেকে। তাঁর ভাষায়, ব্যবহারের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া এআই কেবল একটি তাত্ত্বিক অনুশীলন। জমি বাড়ছে না বলে কম উপকরণে বেশি ফলন, অর্থাৎ কৃষিতাত্ত্বিক দক্ষতা বাড়ানোকেই তিনি সবচেয়ে বড় সুযোগ মনে করেন। প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফার্ম প্রোগ্রেসের অ্যান্ডি ক্যাস্টিলো।
ছবি: USDAgov / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farm Progress





মন্তব্য
(০)