কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে, কিন্তু ডিজিটাল কৃষির নকশা, পরিচালনা ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে নারী কৃষক ও নেতৃত্বের উপস্থিতি এখনও কম। রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে (Kigali) আফ্রিকা ফুড সিস্টেমস ফোরামের এক অধিবেশন শেষে এ কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা জোট সিজিআইএআরের (CGIAR) গবেষকেরা।
"জেন্ডার অ্যান্ড এআই: উইমেন শেপিং আফ্রিকাস ডিজিটাল অ্যাগ্রিফুড ফিউচারস" শীর্ষক অধিবেশনটি আয়োজন করে সিজিআইএআরের জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন অ্যাক্সিলারেটর ও ইমার্জিং অ্যাগ (Emerging Ag)। রুয়ান্ডার তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনমন্ত্রীর মূল বক্তব্যের পর গবেষক, প্রযুক্তি নির্মাতা, নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীরা তিনটি প্রশ্নে আলোচনা করেন: নারীদের জন্য নয়, নারীদের সঙ্গে মিলে কীভাবে এআই বানানো যায়; তথ্য ও অ্যালগরিদম কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করা যায়; আর উৎপাদন ও মুনাফার বাইরে সাফল্য কীভাবে মাপা যায়।
গবেষকদের মতে, ফোন ও ইন্টারনেট পাওয়া কেবল শুরু; আসল মাপকাঠি হলো নারীরা প্রযুক্তি বুঝতে, প্রশ্ন করতে, বদলাতে ও গড়তে পারেন কি না। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা কেনিয়া ও ভারতে অংশীদারদের সঙ্গে চালানো ছবিভিত্তিক শস্য বিমার কথা বলেন: প্রচলিত বিমা সূচক যখন ক্ষতিপূরণ দেয় না, তখন স্মার্টফোনে তোলা ছবি দেখে ফসলের ক্ষতি নিরূপণ করা হয়। এতে ব্যবহার অনেক বেড়েছে, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে — তাঁরা দূরের শহরে না গিয়ে ঘরে বসেই ডিজিটালভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি ও ঋণ শোধ করতে পারছেন।
এআই পরামর্শ সেবা ফসল, মাটি, জলবায়ু ও বাজারের তথ্য মিলিয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিতে পারে; কিন্তু নারীর সময়, সংসারের দায়িত্ব, চলাচল, নগদ টাকা বা ফোনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বিবেচনা না করলে সে পরামর্শ কাজে লাগানো কঠিন। এই কণ্ঠস্বরগুলো গবেষণায় আনতে সিজিআইএআর ফার্ম রেডিও ইন্টারন্যাশনাল ও আইএফপিআরআইয়ের সঙ্গে মিলে তৈরি করছে লোঙ্গা (Longa) — কৃষকদের রেডিও অনুষ্ঠানে রেখে যাওয়া হাজারো কণ্ঠবার্তাকে লেখায় রূপান্তর করে বিশ্লেষণের একটি স্বয়ংক্রিয় কণ্ঠস্বর-শনাক্তকরণ প্রযুক্তি।
লেখকদের মতে, ডাউনলোড বা নিবন্ধনের সংখ্যা গোনা সহজ, কিন্তু তাতে বোঝা যায় না প্রযুক্তি কারও সিদ্ধান্তের ক্ষমতা বাড়িয়েছে কি না। দায়িত্বশীল এআই-কে প্রতিদিনের চর্চায় আনতে তাঁরা বোধগম্য সম্মতি, তথ্যের মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে স্পষ্টতা, তথ্য সংশোধন বা প্রত্যাহারের সুযোগ, পক্ষপাত যাচাই ও প্রতিকারের পথের কথা বলেছেন।
হাইফার ইন্টারন্যাশনালের বোর্ড সদস্য নোমসা ড্যানিয়েলস (Nomsa Daniels) অধিবেশনের মত তুলে ধরে বলেন, নারীরা তাঁদের তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে সে বিষয়ে মত দেবেন ও তার সুফল পাবেন, তাঁদের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে, আর গবেষকদের ভাবতে হবে প্রকাশিত ফলাফল নারী ও তাঁদের সমাজের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে।
লেখাটি আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) জেন্ডার গবেষণার পোস্টডক্টরাল ফেলো নিয়তি সিঙ্গারাজুর, সিজিআইএআরের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও জেন্ডার অ্যাক্সিলারেটরের সঙ্গে যৌথভাবে।
সূত্র: CGIAR





মন্তব্য
(০)