অস্ট্রেলিয়ার প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এজসেন্ট (Agscent) যুক্তরাজ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। খরায় ঘাস, পশুখাদ্যের সরবরাহ আর খামারের উৎপাদনশীলতা চাপে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো একটি ব্রিটিশ খামারে তাদের মিথেন সেন্সর ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা দেখিয়েছে। বাকিংহামশায়ারের আইলসবারির কাছে টেচউইক ফার্মে দেখানো হয় এজসেন্ট জিএইচজি + অপটিওয়েই ব্যবস্থা।
এবারের অস্বাভাবিক শুষ্ক গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডজুড়ে ঘাস কম জন্মেছে, কিছু খামারি আগেভাগেই শীতের পশুখাদ্যে হাত দিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রনউইন ডারলিংটন (Bronwyn Darlington), যিনি নিজেও অস্ট্রেলিয়ার একজন পশুপালক, বলেন, খাবার কম ও দামি হলে কোন পশু তা সবচেয়ে ভালোভাবে ওজনে রূপ দেয়, তা জানা লাভের হিসাবে বড় পার্থক্য গড়ে। তিনি অ্যাগনেভিগেটরকে বলেন, খরাই তাঁদের যুক্তরাজ্যে আসার ভাবনা ত্বরান্বিত করেছে।
কীভাবে কাজ করে: এজসেন্টের মিথেন সেন্সরের সঙ্গে যুক্ত থাকে অপটিওয়েইয়ের (Optiweigh) মাঠে বসানো ওজন মাপার যন্ত্র, ফলে প্রতিটি পশুর ওজন বৃদ্ধি আর মিথেনের মাপ একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা যায়। এজসেন্টের যুক্তি, মিথেন দেখায় একটি পশু খাবারকে কতটা দক্ষতায় শক্তিতে রূপ দিচ্ছে। এতে বোঝা যায় কোন গরু কম মিথেনে বেশি ওজন বাড়াচ্ছে, আর কোনটি পিছিয়ে। চারণের গরুর জন্য সেন্সর থাকে ওজনযন্ত্রের সঙ্গে; দুগ্ধ খামারে তা রোবটিক দোহন ব্যবস্থা বা খাবারের পাত্রে বসানো যায়।
ডারলিংটন বলেন, দুটি পশু খুব ভিন্ন পরিমাণ খাবার খেয়েও একই ওজন বাড়াতে পারে। প্রায় এক মাসেই কাজের তথ্য মেলে, আর শীতের ঘরে তোলার খরচের আগেই কোন পশু রাখা, বিক্রি বা প্রজননে ব্যবহার করা হবে, তা ঠিক করা যায়। তাঁর মতে, ঘরে তোলার আগে পালের নিচের ১২ থেকে ২০ শতাংশ বাদ দিলে খাবার অপচয়কারী পশুগুলো সরে যায়। একটি পশুর মোট খাদ্যশক্তির ৬ থেকে ১২ শতাংশ মিথেন হিসেবে হারিয়ে যায়।
টেচউইক ফার্মে ২৩টি গরু আট দিন যন্ত্রটি ব্যবহারের সুযোগ পায়। এ সময় তারা ১ হাজার ১০৭ বার যন্ত্রে গেছে, মিথেনের ৭২৫টি মাপ এসেছে, পশুপ্রতি গড়ে ৩২টি বৈধ পরিদর্শন। ওজনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেছে কয়েকটি গরুর ওই সপ্তাহে ওজন কমেছে। কারণ ব্যবস্থাটি বলে না, তবে কোন পশুকে খেয়াল করতে হবে, তা খামারিকে দেখিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পাল অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ছোট বলে প্রতিষ্ঠানটি সমবায় মডেলের কথা ভাবছে, যেখানে কয়েকজন খামারি মিলে কয়েক মাস করে একটি যন্ত্র ভাগাভাগি করে নিজেদের পশুর তুলনা করবেন। নাসার কাছ থেকে লাইসেন্স নেওয়া প্রযুক্তিতে নিঃশ্বাস বিশ্লেষণ করে গর্ভধারণ ও রোগ শনাক্তের একটি ব্রেথ প্রযুক্তিও তৈরি করছে এজসেন্ট, যদিও তা যুক্তরাজ্যের প্রথম পর্যায়ে নেই।
ছবি: Trevor Rickard / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)