দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের এথেকউইনি পৌর এলাকার ইনচাঙ্গা অ্যাগ্রোইকোলজি হাবে (Inchanga Agroecology Hub) ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৬৯৭ জন কাজ ও প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, আর প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, কারিগরি সহায়তা ও উৎপাদন উপকরণ নিয়ে কাজ হয়েছে ১৭১ জন কৃষকের সঙ্গে। তিনটি তরুণ-নেতৃত্বাধীন সমবায় নিবন্ধিত হয়েছে, কৃষি-পরিবেশবান্ধব (অ্যাগ্রোইকোলজি) চর্চা গ্রহণের হার ৭১ শতাংশ। ফুড ফর মাজানজিতে (Food for Mzansi) লেখা কলামে এসব তথ্য দিয়েছেন সেরিতি ইনস্টিটিউটের কৃষি কর্মসূচি প্রধান ড. সিফেসিহলে কাঙ্গে (Siphesihle Qange)। মতামত লেখকের নিজের।
তাঁর মতে সংখ্যার চেয়ে জরুরি একটি প্রশ্ন: প্রকল্প শেষ হলে কী থেকে যায়? কেন্দ্রটিতে পৌরসভা দিয়েছে জমি, অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা; সাউদার্ন আফ্রিকা ফুড ল্যাব (এসএএফএল) এনেছে কৃষি-পরিবেশবিদ্যার জ্ঞান; আর সেরিতি মাঠে কৃষকদের সঙ্গে কাজ ও অংশীদারদের সমন্বয় করেছে। পরে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সনদ ও বাজার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এবং সরকারি কৃষি সেবাও এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়।
প্রশিক্ষণকক্ষে শোনার বদলে কৃষকেরা এখানে চোখের সামনে দেখেছেন কম্পোস্ট তৈরি, পুনরুৎপাদনশীল চাষ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও কম পানিতে চাষ। এসএএফএলের সহপরিচালক স্কট ড্রিমি (Scott Drimie) কৃতিত্ব দিয়েছেন উকুভুনা সংস্থার জন এনজিরাকে, যিনি পুরো জায়গাটিকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা হিসেবে নকশা করিয়েছেন: মুরগির ঘর, কম্পোস্ট, বেড, গাছ আর জলাভূমি একে অন্যকে জোগান দেয়; বীজ সংরক্ষণ হয় সেখানেই, পশুখাদ্যও কেনা হয় না, ফলানো হয়।
ড্রিমির ভাষায়, কৃষি-পরিবেশবিদ্যা মানে প্রকৃতির প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নয়, তার সঙ্গে মিলে চাষ; আর সমান গুরুত্বের প্রশ্ন হলো জ্ঞান কার হাতে এবং বীজ, জমি ও বাজার কে নিয়ন্ত্রণ করে। শুধু কেনা সারের বদলে কম্পোস্ট দিলেই তা কৃষি-পরিবেশবিদ্যা হয় না, যদি বৃহত্তর ব্যবস্থা আগের মতোই থাকে।
কাঙ্গের মতে সবচেয়ে টেকসই অর্জন হলো সম্পর্ক। অংশগ্রহণমূলক সনদ ব্যবস্থা পিজিএস ১০০০ হিলস এখনো কৃষকদের সনদ, চালান, পণ্য কেনার চুক্তি ও সাপ্তাহিক বাজারে সহায়তা দিচ্ছে; এমন যোগসূত্র কোনো একক অর্থায়নের মেয়াদ পেরিয়েও টিকে থাকতে পারে।
তাঁর উপসংহার, উন্নয়ন সংস্থাগুলোর লক্ষ্য হওয়া উচিত সময়ের সঙ্গে নিজেদের কম প্রয়োজনীয় করে তোলা: বাস্তবায়নকারী থেকে অংশীদার হওয়া। কৃষক যখন জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, তরুণেরা কৃষিতে সত্যিকারের সুযোগ দেখবেন, বাজার কৃষকের পণ্যের দাম দেবে আর সমাজ নিজের ব্যবস্থার অংশীদার হবে, তখনই কৃষি-পরিবেশবিদ্যা সফল হবে।
ছবি: Gandydancer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Food for Mzansi




মন্তব্য
(০)