২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কৃষি-পর্যটন নিয়ে চাষাবাদে একটি কলাম লিখেছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ, সাবেক সচিব ও বিইউএফটির খণ্ডকালীন শিক্ষক সিকদার আনোয়ার। তাঁর মতে, কৃষি-পর্যটন হলো খামারে থাকা, ফল-ফসল তোলা, মাছ ধরা, গবাদিপশু পালন দেখা, স্থানীয় খাবার ও কৃষিপণ্য কেনা এবং গ্রামীণ সংস্কৃতি উপভোগকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা। এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় পর্যটনের নতুন বিনির্মাণ।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ইতালির কথা বলেছেন। দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা আইএসটিএটির হিসাবে ২০২৪ সালে সেখানে ২৬ হাজার ৩৬০টি অনুমোদিত কৃষি-পর্যটন প্রতিষ্ঠান ছিল, যা ২০১৯ সালের চেয়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি; অতিথি ৪৭ লাখের বেশি, রাতযাপন প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ, আর খাতটির উৎপাদন মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৯৩৪ বিলিয়ন ইউরো।
লেখকের যুক্তি, কৃষি-পর্যটন একই জমি থেকে একাধিক আয় আনে, কৃষিপণ্যের দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমায়, পরিবহন, আবাসন, গাইড ও ডিজিটাল বিপণনে কাজ তৈরি করে এবং নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ায়। খামারে পর্যটক সরাসরি আম, লিচু, মধু, মাছ বা সবজি কিনলে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমে। তাঁর হিসাবে দেশে আবাদযোগ্য জমি প্রায় ১৮৬ দশমিক ৮১ লাখ একর, ট্যুরিস্ট রিসোর্ট প্রায় ৮০০টি, আর ২০২২ সালের জনশুমারিতে শহরে থাকেন প্রায় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ।
তিনি অঞ্চলভিত্তিক মডেলের প্রস্তাব দিয়েছেন: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুরে আম-লিচু পর্যটন, সিলেট-মৌলভীবাজারে চা, যশোরে ফুল, সুনামগঞ্জ-কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোনার হাওরে কৃষি-পর্যটন, পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ি কৃষি, শহরে ছাদকৃষি। চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি কৃষকের জ্ঞানের ঘাটতি, গ্রামের অবকাঠামো, মানদণ্ড ও লাইসেন্সিংয়ের অভাব এবং কৃষি-পর্যটনের নামে জমির শ্রেণি বদল ও অতিরিক্ত স্থাপনার ঝুঁকির কথা বলেছেন।
করণীয় হিসেবে লেখক কৃষি-পর্যটন জোন ঘোষণা, উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ বা অনুদান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পর্যটন কর্তৃপক্ষের যৌথ প্রশিক্ষণ, একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, মান সনদ এবং কৃষি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মিলে জাতীয় কৃষি-পর্যটন কৌশল প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন।
মতামত লেখকের নিজস্ব। কলামটি চাষাবাদে প্রকাশিত।
ছবি: SP Suhag Debbarma / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: চাষাবাদ





মন্তব্য
(০)