ডেইলি বাংলাদেশের মতামত পাতায় শরিফুল ইসলাম রনি লিখেছেন, পর্যটন এখন শুধু পাহাড়, সমুদ্র বা ঐতিহাসিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই; ধানখেত, ফলের বাগান, ফুলের মাঠ, মাছের ঘের আর গবাদিপশুর খামারও পর্যটকের গন্তব্য হয়ে উঠছে, আর বাংলাদেশকে কৃষি পর্যটনের জন্য নতুন করে সাজাতে হবে না।
লেখক বিদেশের উদাহরণ দিয়েছেন: ইতালিতে কৃষি পর্যটনের ইতিহাস ১৯৬৫ সাল থেকে, এখন দেশটির ২০ হাজারের বেশি খামার এর সঙ্গে যুক্ত; নিউজিল্যান্ডে ১৯৩০-এর দশকের অর্থনৈতিক সংকটে কৃষকেরা খামারে অতিথি রাখা শুরু করেন। অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্য, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা পর্যটকেরা কৃষি পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ভ্রমণে প্রায় ১০৮ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার খরচ করেছেন বলে লেখায় উল্লেখ আছে।
তাঁর মতে, বাংলাদেশে কৃষি পর্যটনের প্রথম গ্রাহক বিদেশি নয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনার শহুরে পরিবার, যারা সন্তানদের ধানগাছ, গরুর খামার বা মৌমাছির মধু তৈরি দেখাতে চান। জাতীয় পর্যটন নীতিতেও গ্রামীণ, নদীভিত্তিক ও কৃষিভিত্তিক পর্যটনকে বৈচিত্র্যময় পর্যটন পণ্য হিসেবে উন্নয়নের কথা আছে বলে তিনি লিখেছেন।
লেখক একটি গ্রামের উদাহরণ দিয়েছেন: ৫০টি কৃষক পরিবারের মধ্যে কেউ অতিথিশালা করলেন, কেউ স্থানীয় খাবার দিলেন, কেউ নৌকা চালালেন বা গাইড হলেন, কেউ বাঁশের পণ্য বা প্যাকেট করা কৃষিপণ্য বিক্রি করলেন। এতে ধান বিক্রির আয়ের পাশাপাশি একই জমি থেকে আরও কয়েকটি আয়ের পথ তৈরি হয়।
ঝুঁকির কথাও বলেছেন তিনি: কৃষিজমি কেটে রিসোর্ট বানিয়ে, কংক্রিট করে কয়েকটি গাছ লাগিয়ে সেটিকে কৃষি পর্যটন বললে কৃষি থাকবে না। সফল মডেলের মূল কথা, কৃষি আগে, পর্যটন পরে; কৃষককে কেন্দ্রে রাখতে হবে, স্থানীয় মানুষকে অংশীদার করতে হবে এবং পানি, বর্জ্য, শব্দ ও কৃষিজমির ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মতামতটি লেখকের নিজস্ব; সারাংশ দি এগ্রো নিউজের।
ছবি: Khairuzzaman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ





মন্তব্য
(০)