আফ্রিকায় অপুষ্টির মূল কারণ উৎপাদনের ঘাটতি নয়, বরং মহাদেশ থেকে পরিবার পর্যন্ত খাদ্য বণ্টনের দুর্বলতা। ১ সেপ্টেম্বর রুয়ান্ডার কিগালিতে আফ্রিকা ফুড সিস্টেমস ফোরাম ২০২৬-এ সিজিআইএআর পলিসি ইনোভেশনস সায়েন্স প্রোগ্রাম ও আগ্রার (AGRA) আয়োজিত এক অধিবেশনে এ কথা উঠে আসে। ২৮ সেপ্টেম্বর অধিবেশনের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে সিজিআইএআর।
সিজিআইএআরের প্রধান বিজ্ঞানী সান্দ্রা মিলাখ (Sandra Milach) বলেন, খাদ্য সার্বভৌমত্ব মানে প্রতিটি দেশের সব কিছু উৎপাদন নয়, বরং দেশীয় উৎপাদনের সঙ্গে বাণিজ্যের সমন্বয়। আফ্রিকা বছরে ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের খাদ্য আমদানি করে, যা ২০৫০ সালে ১২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। সিজিআইএআরের জেমস থার্লো (James Thurlow) বলেন, বিদ্যমান অপুষ্টি দূর করতে আফ্রিকার কৃষিতে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লাগবে, আর খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে লাভ কাঁচা উৎপাদনের চেয়ে বেশি বলে নীতির মনোযোগ সেদিকে সরানো উচিত।
আলোচকেরা বলেন, ঢালাওভাবে চালে স্বয়ংসম্পূর্ণতার নীতি কৃষি-পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে। আফ্রিকান ইউনিয়নের ৫৫ সদস্যকে এক বাজারে যুক্ত করা আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এরিয়াকে তাঁরা আন্তঃআফ্রিকা খাদ্য বাণিজ্যের কাঠামো হিসেবে দেখেন। ট্রেডমার্ক আফ্রিকার রোজিন উওয়ামারিয়া জানান, পণ্যবাহী যান ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় খাদ্য করিডোরের খরচ ৫০ শতাংশ কমেছে, আর এক জায়গায় সীমান্ত সেবায় অপেক্ষার সময় কমেছে।
নাইজেরিয়ার কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তামন্ত্রী আবুবকর কিয়ারি ২০২২ সালের বন্যা থেকে শুরু করে ফসল তোলার মৌসুমে মুদ্রা পুনর্নকশার মতো ধাক্কার কথা তুলে ধরেন এবং জানান, সরকার ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের সার বিতরণ করেছে। ইফপ্রির অলিভার কিপতু কিরুই ও গেটস ফাউন্ডেশনের জোশুয়া আরিগা বলেন, গবেষণাকে কেবল নথি তৈরি থেকে নীতি বাস্তবায়নে সহায়তার দিকে যেতে হবে, মন্ত্রীদের জন্য এআইভিত্তিক সিদ্ধান্ত-সহায়ক টুলসহ।
অধিবেশনের সুপারিশ: প্রতিটি অঞ্চলের কৃষি-পরিবেশগত সুবিধা অনুযায়ী আঞ্চলিক বিশেষায়ন, কম শুল্ক ও সহজ প্রক্রিয়ায় সস্তা বাণিজ্য করিডোর, কৃষিব্যবসার জন্য অর্থায়ন ও সনদ সহায়তা এবং দেশগুলোর স্থায়ী নীতি-সক্ষমতা গড়ায় দাতাদের অর্থ। সারসংক্ষেপটি লিখেছেন আইএলআরআইয়ের গেতাচেউ লেগেসে ফেয়ে ও সিজিআইএআরের রাজলক্ষ্মী নির্মল।
ছবি: সিজিআইএআর
সূত্র: CGIAR





মন্তব্য
(০)