গাছের শিকড় তার সঙ্গী ব্যাকটেরিয়া বেছে নেয় প্রজাতি দেখে নয়, ব্যাকটেরিয়াগুলো কী কাজ করতে পারে তা দেখে। ডেনমার্কের আরহুস বিশ্ববিদ্যালয় (Aarhus University) ও নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের (Utrecht University) এক যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, অণুজীবভিত্তিক জৈব সার ও বায়োস্টিমুল্যান্ট নকশার জন্য এটি একটি কাজের নির্দেশিকা।
গবেষণাটি ১৭ সেপ্টেম্বর নেচার মাইক্রোবায়োলজি (Nature Microbiology) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। প্রধান লেখক আরহুসের অধ্যাপক সিমোনা রাদুতোইউ (Simona Radutoiu) ও উট্রেখটের সহযোগী অধ্যাপক রনি দে ইয়ঙ্গে (Ronnie de Jonge); প্রথম লেখক উট্রেখটের খেইস সেলটেন (Gijs Selten), সহলেখক আরহুসের ফ্লোরিয়ান লামুশ (Florian Lamouche)। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্রান্সের ইনরাই আঁজে (INRAE Angers) ও জার্মানির ইয়েনার ফ্রিডরিখ শিলার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরাও এতে ছিলেন।
শিকড়ে বাস করা ব্যাকটেরিয়া ফসলকে পুষ্টি নিতে, খরা সইতে ও রোগ ঠেকাতে সাহায্য করে, এটা জানা কথা। কিন্তু মাটির অসংখ্য ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে কোনগুলো শিকড়ে জায়গা পাবে, গাছ তা কীভাবে ঠিক করে, সেটা স্পষ্ট ছিল না। গবেষকেরা প্রায় ১,০০০ ব্যাকটেরিয়ার জিনোম বিশ্লেষণ করেন, গবেষণাগারে কৃত্রিম ব্যাকটেরিয়া-সম্প্রদায় তৈরি করে মাটিতে জন্মানো তিনটি গাছে প্রয়োগ করেন: মডেল উদ্ভিদ অ্যারাবিডপসিস, দানাশস্য বার্লি এবং মডেল শিম-জাতীয় উদ্ভিদ লোটাস জাপোনিকাস। এরপর দেখা হয়, কোন গাছে কোন ব্যাকটেরিয়া বসত গড়ল এবং সেগুলোর কী কী কাজের ক্ষমতা আছে।
তিন গাছের শিকড়ে প্রজাতির মিশ্রণ আলাদা হলেও কাজের দিক থেকে ফল একই দাঁড়ায়। তিনটিতেই ২৬৬টি ব্যাকটেরিয়া-কাজ ধারাবাহিকভাবে বেশি পাওয়া গেছে, যা শুরুর সংগ্রহের মোট কার্যবৈচিত্র্যের প্রায় ৩ শতাংশ। কোনো একক ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে পুরো তালিকা ছিল না; কাজগুলো ভাগ হয়ে ছিল সম্প্রদায়ের একাধিক সদস্যের মধ্যে। অ্যারাবিডপসিস ও বার্লি হাতের কাছে যা বেশি পেয়েছে তা-ই নিয়েছে, আর লোটাস জাপোনিকাস বেছে নিয়েছে অল্প কয়েকটি বহুমুখী ব্যাকটেরিয়া, যাদের প্রত্যেকের মধ্যে অনেক কাজের ক্ষমতা আছে।
জৈব সার প্রস্তুতকারকদের জন্য এর অর্থ, নির্দিষ্ট প্রজাতির তালিকা ধরে নয়, শিকড়ে কী কাজ যোগ করে তা দেখে অণুজীবের মিশ্রণ বাছাই করা। এ ধরনের পণ্য এতদিন অনেকটা দেখে-শুনে-চেষ্টা করে তৈরি হয়েছে, এক মাটিতে কাজ করে অন্য মাটিতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্লোবাল এগ্রিকালচার লিখেছে, শীতপ্রধান অঞ্চলে যাচাই করা অণুজীব পণ্য ভারতসহ উন্নয়নশীল দেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও আধা-শুষ্ক মাটিতে প্রায়ই কম কাজ করে; কাজভিত্তিক নকশা সেখানে সহায়ক হতে পারে।
ফলাফলগুলো নিয়ন্ত্রিত গবেষণাগারের পরীক্ষার, মাঠের নয়। কাজভিত্তিক মিশ্রণ খামারে প্রচলিত পণ্যের চেয়ে ভালো করে কি না, গবেষকেরা তা এখনো দেখাননি; জৈব উপকরণ শিল্প এখন সেই পরের ধাপের দিকে তাকিয়ে।
ছবি: Mark Talbot, CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)