ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো জিকাও এডিস মশার কামড়ে ছড়ানো ভাইরাস, লক্ষণও প্রায় এক: জ্বর, গায়ে র্যাশ, চোখ লাল হওয়া, মাথা ও ঘাড়ে ব্যথা। এই সময়ের স্বাস্থ্য পাতার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিকার একটি বড় পার্থক্য হলো এটি যৌন সংস্পর্শেও ছড়াতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মশার কামড় ছাড়াই আক্রান্ত পুরুষ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে সঙ্গীর শরীরে ভাইরাস ছড়াতে পারেন; অনেক সময় পুরুষের কোনো লক্ষণ থাকে না, তবু বীর্যের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। জ্বর সেরে যাওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ, এমনকি মাস পর্যন্ত বীর্যে ভাইরাস থেকে যেতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বরাতে বলা হয়েছে, জিকা স্থায়ী বন্ধ্যত্ব ঘটায় এমন চূড়ান্ত প্রমাণ মেলেনি। আসল বিপদ গর্ভাবস্থায়: গর্ভবতী নারী মশার কামড়ে বা যৌন সংস্পর্শে আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে (মাইক্রোসেফালি), গর্ভপাত বা অপরিণত প্রসবের ঝুঁকিও বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ও ডব্লিউএইচওর নির্দেশিকা উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো পুরুষ জিকায় আক্রান্ত হলে বা জিকাপ্রবণ এলাকা ঘুরে এলে সুস্থ হওয়ার পর অন্তত তিন মাস যৌন মিলনে কনডম ব্যবহার করা বা মিলন এড়িয়ে চলা উচিত; সঙ্গী গর্ভবতী হলে পুরো গর্ভাবস্থায় সুরক্ষা মানা শ্রেয়।
জ্বর ও চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এডিস মশার বিস্তার রোধ ডেঙ্গুর মতো জিকা প্রতিরোধেরও মূল উপায়।
ছবি: CDC / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)