দেশে দেড় কোটির বেশি মানুষ হৃদ্রোগে আক্রান্ত, আর মোট মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কারণ এই রোগ। অথচ সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে সারা দেশে আইসিইউ শয্যা মাত্র তিন হাজার, যার বেশির ভাগ ঢাকায়। দুই শতাধিক কার্ডিয়াক সার্জনের মধ্যে ঢাকার বাইরে কাজ করেন মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন। বিশ্ব হার্ট দিবস সামনে রেখে ঢাকায় এক গোলটেবিল বৈঠকে এ চিত্র তুলে ধরেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী।
'বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬: প্রতিটি হৃৎস্পন্দনই জীবন' শীর্ষক বৈঠকটি হয় ২১ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো কার্যালয়ে। আয়োজক ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ও প্রথম আলো, সায়েন্টিফিক পার্টনার ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস। অধ্যাপক রিজভী জানান, কার্ডিয়াক সার্জারিতে আড়াই থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তিনি চিকিৎসা ও হাসপাতালের ওপর কর কমানো, বেসরকারি খাতকে প্রণোদনা এবং স্বাস্থ্যবিমা চালুর আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুর কারণ কার্ডিওভাসকুলার রোগ, আর দেশে এর চিকিৎসা এখনো অনেকটাই ঢাকাকেন্দ্রিক। বিভাগীয় পর্যায়ে হৃদ্রোগের চিকিৎসাকেন্দ্র তৈরির কাজ চলছে, তবে দক্ষ জনবলের সংকট আছে, বিশেষ করে শিশুর হৃদ্রোগ চিকিৎসায়।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ফজিলা-তুন-নেসা মালিক বলেন, প্রায় ৮০ শতাংশ হৃদ্রোগ প্রতিরোধযোগ্য। অল্প কাজে ক্লান্তি, সামান্য শ্বাসকষ্ট বা দু-তিন ধাপ সিঁড়ি উঠেই থেমে যাওয়ার মতো ছোট উপসর্গ অবহেলা না করতে এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরামর্শ দেন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারির অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণ অনেকটাই এক; ভারসাম্য হারানো, মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ অবশ হওয়া বা কথা জড়িয়ে গেলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
চিকিৎসার খরচ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, দেশের মাত্র ১২ থেকে ১৩ শতাংশ মানুষ আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন; বাকি ৮৭ শতাংশের কাছ থেকে নিয়মিত বিমার প্রিমিয়াম তোলা কঠিন। তাই স্বাস্থ্যবিমার বিকল্প হিসেবে তিনি একটি জাতীয় স্বাস্থ্য তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জন অধ্যাপক ডা. মেজর (অব.) এম কামরুল ইসলাম তালুকদার জানান, এখন প্রায় ৯০ শতাংশ বাইপাস অস্ত্রোপচার দেশেই হচ্ছে। পুষ্টিবিদ সৈয়দা ফারহানা মাহমুদ ভাত-রুটির পরিমাণ কমিয়ে শাকসবজিকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দেন।
বৈঠকের সুপারিশে বলা হয়, ঢাকার বাইরে হৃদ্রোগের চিকিৎসা ও দক্ষ জনবল বাড়াতে হবে, জন্মগত হৃদ্রোগ শনাক্তে জাতীয় স্ক্রিনিং চালু করতে হবে এবং দরিদ্র রোগীদের জন্য সুলভ ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামের মানুষ ও কৃষক পরিবারের জন্য এর মানে, চিকিৎসা কাছে না এলে একটি অস্ত্রোপচারের খরচেই পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে যেতে পারে।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)