সেপ্টেম্বরে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আবার বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) শুক্রবার জানিয়েছে, মূলত পরিবহন ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগে সরবরাহ টান পড়ায় এই বৃদ্ধি। সংস্থার খাদ্যমূল্য সূচক মাসটিতে গড়ে ১৩৬.০ পয়েন্ট ছিল, যা আগস্টের চেয়ে ১.৫ শতাংশ এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৫.৮ শতাংশ বেশি।
এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো (Maximo Torero) বলেন, হরমুজ প্রণালী ও কৃষ্ণসাগরের বিঘ্ন জলবায়ুজনিত ধাক্কার সঙ্গে মিলে পণ্যমূল্যে একটানা ও ক্রমে বিস্তৃত চাপ তৈরি করছে। তাঁর মতে, এই চাপ টিকে থাকলে শিগগিরই তা ভোক্তার খাদ্যমূল্যে পৌঁছাবে, বিশেষ করে যেসব দেশ খাদ্য ও জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
দাম বৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল দানাশস্য। এফএওর দানাশস্য মূল্য সূচক এক মাসে ৫.১ শতাংশ বেড়েছে এবং গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭.২ শতাংশ ওপরে। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের পরিবহন সমস্যা এবং বপনের আগে উত্তর আমেরিকার কিছু অংশে শুষ্ক আবহাওয়ায় গমের দাম বেড়েছে ৬.৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে ফলন নিয়ে উদ্বেগ, ব্রাজিলের রপ্তানিযোগ্য সরবরাহ কমা এবং কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় ভুট্টার দাম বেড়েছে ৫.৬ শতাংশ। সব ধরনের চালের মূল্য সূচক বেড়েছে ১.৪ শতাংশ।
চিনির মূল্য সূচক বেড়েছে ৬.১ শতাংশ। ২০২৬/২৭ মৌসুমে সরবরাহ কমার আশঙ্কা, থাইল্যান্ডে উৎপাদন কম হওয়ার প্রত্যাশা, স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি ও জোরালো হতে থাকা এল নিনোর কারণে ভারতের ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা, ব্রাজিলের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে চিনিবিটের আবাদ কমা এর পেছনে কাজ করেছে। পাম তেলের দাম বাড়ায় ভোজ্যতেলের সূচক বেড়েছে ০.৯ শতাংশ। অন্যদিকে শূকর ও মুরগির মাংসের দাম কমায় মাংসের সূচক ১.১ শতাংশ কমেছে, দুগ্ধপণ্যের সূচক প্রায় স্থির (০.১ শতাংশ কম)।
একই দিনে প্রকাশিত দানাশস্যের চাহিদা ও সরবরাহ বিষয়ক প্রতিবেদনে এফএও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বে দানাশস্য উৎপাদন ২০২৫ সালের চেয়ে ২.১ শতাংশ কমে ২৯৭ কোটি ৯০ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে, যা তবুও ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফলন। অস্ট্রেলিয়ায় ভালো আবহাওয়ায় গমের পূর্বাভাস বেড়ে ৮১ কোটি ৩৯ লাখ টন হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় মোটা দানার শস্যের পূর্বাভাস কমে ১৬১ কোটি ২০ লাখ টন হয়েছে। বিশ্বে চাল উৎপাদনের পূর্বাভাস ৫৫ কোটি ২৫ লাখ টন। অসম বণ্টিত বর্ষার কারণে ভারতের সম্ভাবনা কমে যাওয়া জাপান ও নেপালের ভালো ফলনকে ছাপিয়ে গেছে।
এফএও আরও বলছে, বিশ্বে দানাশস্যের বাণিজ্য ২০২৫/২৬ সালের রেকর্ড থেকে ৩.৫ শতাংশ কমে ৫০ কোটি ৫৮ লাখ টনে নামতে পারে। কৃষ্ণসাগরের নৌপথ সংকুচিত হওয়ায় গম ও ভুট্টার রপ্তানি বেশি কমবে। ২০২৭ সালের মৌসুম শেষে দানাশস্যের মজুত অপরিবর্তিত ৯৫ কোটি টন থাকবে বলে পূর্বাভাস, আর মজুত ও ব্যবহারের অনুপাত ৩২.০ থেকে নেমে ৩১.৭ শতাংশ হবে।
এফএওর আয়োজনে চলা কৃষিবাজার তথ্য ব্যবস্থা (এএমআইএস) তাদের মাসিক মার্কেট মনিটরে বলেছে, উচ্চ জাহাজভাড়া, সারের বাজারে দৃঢ়তা ও চলমান পরিবহন সমস্যা বাজারকে আরও অনিশ্চিত করছে। এল নিনো নিয়ে বিশেষ নিবন্ধে বলা হয়েছে, এল নিনোর বছরে বিশ্বে ধানের ফলন সাধারণত প্রবণতার চেয়ে ১.০ থেকে ১.৫ শতাংশ কম হয়, আর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ধান নিয়েই উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। গম ও ভুট্টার ফলন সাধারণত স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকে।
ছবি: Larsz/Lars Plougmann / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)