খামার যখন চালকবিহীন বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে চলবে, তখন কৃষিযন্ত্রের শ্রেণিবিন্যাসে ট্রাক্টর আর শীর্ষে থাকবে না—সেই জায়গা নেবে লাঙল, স্প্রেয়ারের মতো সংযুক্ত যন্ত্রাংশ বা ইমপ্লিমেন্ট। লন্ডনের ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রি-টেক সম্মেলনের এক আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেছেন। তাঁদের শর্ত একটাই: নির্মাতাদের নিশ্চিত করতে হবে, যন্ত্রাংশ যেন ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ডের ট্রাক্টরের সঙ্গে কাজ করতে পারে।
ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, কম কীটনাশক ও আগাছানাশক ব্যবহারের চাপ আর শ্রমিক-সংকট কৃষকদের স্বয়ংক্রিয় ট্রাক্টর কিনতে উৎসাহ দিচ্ছে। স্কটল্যান্ডের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান নরিশটেকের অংশীদার মার্ক ডার্নো জানান, তাঁর এক কৃষক বন্ধু ১২ মাসে ১২ জন চালক বদলানোর পর চালকবিহীন ট্রাক্টর কিনেছেন। কুবোটা ইউরোপের পিটার ভান ডার ভ্লুগট বলেন, স্বয়ংক্রিয় ট্রাক্টরের চাহিদা বাড়ছে, বাড়ছে সেগুলোতে জোড়া যায় এমন যন্ত্রাংশের চাহিদাও।
কৃষক ও বিজ্ঞানী-উদ্যোক্তাদের সংযোগকারী সংস্থা অ্যাগ্রি-টেকইর বেলিন্ডা ক্লেয়ার বলেন, কৃষকেরা এমন যন্ত্র চান, যা ছোটখাটো একঘেয়ে কাজ সহজ করে—যেমন গুদামে পণ্য সরানোর রোবট। লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিমান রোবোটিকসের অধ্যাপক মার্ক হানহাইডের পূর্বাভাস, খামারগুলো একটি একটি করে নয়, একবারে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় যান ও রোবটে চলে যাবে; তবে কত দ্রুত, তা নির্ভর করবে ব্র্যান্ড ও যন্ত্রাংশের সামঞ্জস্যের ওপর।
কৃষি ইলেকট্রনিকসে সহযোগিতা বাড়ানোর বৈশ্বিক সংস্থা অ্যাগ্রিকালচারাল ইন্ডাস্ট্রি ইলেকট্রনিকস ফাউন্ডেশনের প্রধান নরবার্ট শ্লিংম্যান বলেন, সামঞ্জস্যপূর্ণ যন্ত্রাংশের অভাবই স্বয়ংক্রিয় কৃষিযন্ত্রের বিস্তার আটকে রেখেছে। তাঁর ভাষায়, ‘ট্রাক্টর আর রাজা নয়, রাজা এখন যন্ত্রাংশ।’
ডার্নোর মতে, রোবট তৈরির স্টার্টআপগুলো বিনিয়োগ, উৎপাদন, সরবরাহকারী খোঁজা, বিপণন ও সম্প্রসারণের চাপে ভোগে; তাই ঠিকাদার ও লিজিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জোট বাঁধলে কৃষকেরা যন্ত্র চালিয়ে দেখে আস্থা পেতে পারেন। হানহাইড যোগ করেন, এসব যন্ত্র যে তথ্য তৈরি করে, তার মালিকানা, ভাগাভাগি ও নিরাপদ সংরক্ষণের প্রশ্ন এখনো মীমাংসা হয়নি; সেই তথ্য কৃষক ও নির্মাতা দুজনের কাছেই মূল্যবান।
ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farmers Weekly NZ





মন্তব্য
(০)