বড় বড় কোম্পানি পুনরুৎপাদনশীল কৃষিতে (রিজেনারেটিভ এগ্রিকালচার) টাকা ঢালছে, কিন্তু কৃষকদের বড় পরিসরে এই পদ্ধতিতে আনতে খরচ কে দেবে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ের পিংগুতে ওয়ার্ল্ড এগ্রি ফুড ইনোভেশন (WAFI) সম্মেলনের এক ফোরামে এ কথা বলেন IKEA (ইকিয়া), Royal Canin (রয়্যাল ক্যানিন) ও Yara (ইয়ারা)-র কর্মকর্তারা।
মার্স গ্রুপের মালিকানাধীন পোষা প্রাণীর খাদ্য প্রস্তুতকারক রয়্যাল ক্যানিন ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া-প্যাসিফিক বাণিজ্যিক পরিচালক Yang Ming (ইয়াং মিং) জানান, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে তারা কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন, বছর শেষে লোকসান হলে তা বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কারণ প্রথম মৌসুমগুলোতে অনিশ্চয়তা বেশি। তবে পরীক্ষার পর্যায় পেরোলে এভাবে চালানো সম্ভব নয় বলে স্বীকার করেন তিনি।
এর বদলে রয়্যাল ক্যানিন সরবরাহ শৃঙ্খলের মাধ্যমে প্রণোদনা দেওয়ার পথ খুঁজছে। গম কেনার সময় তারা দেখে শস্যটি পুনরুৎপাদনশীল পদ্ধতির এলাকা থেকে আসছে কি না, আর নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহকারীদের ভর্তুকি দেয়, যা ব্যবসায়ী হয়ে কৃষকের কাছে পৌঁছায়। চীনের শানতুং ও হপেই প্রদেশে সিনজেন্টার সঙ্গে কাজ করছে কোম্পানিটি; ইয়াং মিং চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণার কথা বলেন, যাতে সেখানে মাটির স্বাস্থ্যের উন্নতি ও মাটি থেকে কার্বন নিঃসরণ কমার প্রমাণ মিলেছে।
ইয়ারা ইন্টারন্যাশনালের ইকোসিস্টেম পার্টনারশিপ ও উদ্ভাবন বিভাগের পরিচালক Esther Van de Voort (এস্থার ভ্যান দে ভোর্ট) বলেন, কৃষক, উপকরণ সরবরাহকারী, ক্রেতা, সরকার, এনজিও ও বিশ্ববিদ্যালয়, সবাইকে দায় ভাগ করে নিতে হবে। তাঁর মতে, সবার লক্ষ্য, বাজেট ও সময়সূচি মেলানো কঠিন, আর আবহাওয়া, বাজার ও উৎপাদনের ঝুঁকির কারণে ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীরা কৃষিতে সতর্ক। উন্নত কৃষি-তথ্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নতুন হাতিয়ার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আনতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ইকিয়ার আগ্রহ মূলত দীর্ঘমেয়াদে কাঁচামাল নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব এশিয়া সরবরাহ অঞ্চলের কাঁচামাল উন্নয়ন কর্মকর্তা Leo Xiao (লিও শিয়াও) জানান, ইকিয়ার মোট কার্বন নিঃসরণের ৬০ শতাংশের বেশি আসে কাঁচামাল থেকে। তুলার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের বিশ্লেষণে প্রচলিত চাষের তুলনায় পুনরুৎপাদনশীল পদ্ধতিতে কার্বন পদচিহ্ন উল্লেখযোগ্যভাবে কম পাওয়া গেছে।
আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, পরীক্ষামূলক খামারে পদ্ধতিটির কৃষিতাত্ত্বিক সুফল প্রমাণিত; এখন প্রশ্ন এমন অর্থায়ন কাঠামোর, যাতে খরচ ও ঝুঁকি কেবল কৃষকের ঘাড়ে না পড়ে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে ভাগ হয়।
প্রতিবেদনটি এজিনেভিগেটরের জন্য লিখেছেন অ্যামান্ডা লিম।
ছবি: USDA NRCS South Dakota / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)