সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩১°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৬০%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

গরমে গোলাপের পাতা খয়েরি হওয়ার তিন কারণ: রোদ, পানি ও সারে যা করণীয়

গরমের সময় গোলাপ গাছে ফুল ফুটলেও পাতার কিনারায় খয়েরি, পোড়া দাগের মতো ছোপ পড়তে পারে; এর পেছনে থাকে কড়া রোদ, ভুল মাত্রায় পানি আর অতিরিক্ত সার, আর তিনটিরই প্রতিকার আছে।

গরমে গোলাপের পাতা খয়েরি হওয়ার তিন কারণ: রোদ, পানি ও সারে যা করণীয়
ফুল

গরমে গাছপালার সতেজতা কমে যায়। এ সময় অনেক বাগানে দেখা যায়, গোলাপ গাছে নিয়মিত ফুল ফুটলেও পাতার কিনারায় খয়েরি বা পোড়া দাগের মতো ছোপ পড়ছে, ধীরে ধীরে পাতা শুকিয়ে যাওয়ার মতো দেখায়, কখনো মনে হয় পাতা যেন ঝলসে গেছে। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ৩১ মে গ্রীষ্মের এই সমস্যা নিয়ে লেখে, শুধু তাপমাত্রা নয়, আরও কয়েকটি কারণে গোলাপে এমন লক্ষণ দেখা দেয়। উদ্যানতত্ত্বের নির্দেশিকাগুলোও একই কথা বলে: কড়া রোদ ও গরম, পানি দেওয়ার ভুল এবং অতিরিক্ত সার।

পাতার কিনারা আগে খয়েরি হয় কেন


পাতার এই অবস্থাকে উদ্যানবিদেরা বলেন লিফ স্কর্চ বা পাতা ঝলসানো। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটির (আরএইচএস) ব্যাখ্যায়, পাতা থেকে যত দ্রুত পানি বেরিয়ে যায়, তত দ্রুত তা পূরণ না হলেই পাতা ঝলসে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মর্টন আরবোরেটাম জানায়, শিকড় থেকে পানি সবার শেষে পৌঁছায় পাতার আগা ও কিনারায়, তাই ক্ষতিটা প্রথমে সেখানেই দেখা দেয়। দীর্ঘ সময়ের উচ্চ তাপমাত্রা, গরম শুকনো বাতাস ও কম বৃষ্টি এর সবচেয়ে সাধারণ কারণ। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এক্সটেনশনও গোলাপের পাতার কিনারা খয়েরি হওয়ার কারণ হিসেবে গরম ও খরার চাপ এবং অতিরিক্ত সারের কথা বলেছে।

আশার কথা হলো, শুধু ঝলসানোর ক্ষতিতে একটি সুস্থ গাছ মারা যায় না বলে জানায় মর্টন আরবোরেটাম। আরএইচএস বলছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গাছ এই অবস্থা কাটিয়ে ওঠে; তবে ক্ষতির পর পানি ও সারের দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়।

বৃষ্টির পর গোলাপ গাছের সবুজ পাতা, স্লোভেনিয়া। ছবি: Smihael / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বৃষ্টির পর গোলাপ গাছের সবুজ পাতা, স্লোভেনিয়া। ছবি: Smihael / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

কড়া রোদ থেকে আড়াল, তবে আলো যেন কম না হয়


গোলাপ গাছ সরাসরি তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় থাকলে পাতায় পোড়া দাগ পড়তে পারে। আরএইচএস জানায়, যেসব গাছ সারা দিন রোদ পায় বা খোলা জায়গায় থাকে, সেগুলোতেই এমন ক্ষতি বেশি হয়, আর দাগ সাধারণত পড়ে গাছের রোদের দিকের পাতায়। তাই গরমের দিনে দুপুরের কড়া রোদ থেকে গাছ বাঁচানো জরুরি; টবের গাছ প্রয়োজনে আংশিক ছায়ায় সরিয়ে সকাল ও বিকেলের নরম আলোয় রাখা যায়।

মনে রাখতে হবে, গোলাপ রোদপ্রিয় গাছ। ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির হোম অ্যান্ড গার্ডেন ইনফরমেশন সেন্টারের পরামর্শ, গোলাপকে দিনে অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা সরাসরি রোদ দিতে হয়। সকালের রোদ বিশেষ জরুরি, কারণ তা পাতা শুকিয়ে রোগ ঠেকাতে সাহায্য করে। ছায়ার ব্যবস্থা তাই কেবল দুপুরের তীব্র রোদের সময়টুকুর জন্য।

পানি কম বা বেশি, দুটোই ক্ষতিকর


পানি কম দিলেও সমস্যা, বেশি দিলেও। মাটিতে পানি জমে থাকলে কিংবা মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে পাতায় দাগ পড়তে পারে। তাই টবের তলায় পানি বের হওয়ার ঠিকঠাক ব্যবস্থা থাকা চাই। ক্লেমসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী গোলাপের জন্য দরকার ঝুরঝুরে, সহজে পানি নিষ্কাশন হয় এমন, বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকা ও প্রচুর জৈব পদার্থ মেশানো মাটি।

গরমে গাছের পানির চাহিদা বাড়ে, তবে পানি দেওয়ার আগে দেখে নিন মাটির ওপরের স্তর শুকিয়েছে কি না। উদ্যানবিদদের পরামর্শগুলো এমন:

  • ঘন ঘন অল্প পানি না দিয়ে গভীর করে ভিজিয়ে দিন; ক্লেমসনের মতে, অল্প অল্প পানিতে শিকড় মাটির ওপরের দিকে থাকে এবং সহজে গরমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর গভীর সেচে শিকড় গভীরে গিয়ে খরা সইতে পারে।
  • পানি দিন সকালে এবং গাছের গোড়ায়, পাতার ওপর দিয়ে নয়; ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এক্সটেনশন দিনের শুরুতে গোড়ায় পানি দেওয়ার কথা বলে, যাতে পাতা যতটা সম্ভব শুকনো থাকে।
  • বিশেষ করে বিকেলের পর পাতা ভেজাবেন না।
  • গোড়ায় প্রায় ৩ ইঞ্চি পুরু মালচ, যেমন খড়, শুকনো পাতা, গাছের বাকল বা কাঠের কুচি বিছিয়ে দিন; ক্লেমসনের মতে এতে মাটির আর্দ্রতা ধরে থাকে, আগাছাও কমে। কাণ্ডের গা ঘেঁষে খানিকটা জায়গা খালি রাখুন।
টবে লাগানো হালকা গোলাপি রঙের গোলাপ গাছ। ছবি: Jefrienannienelson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
টবে লাগানো হালকা গোলাপি রঙের গোলাপ গাছ। ছবি: Jefrienannienelson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

অতিরিক্ত সারে পাতা পোড়ে


ভালো ফুলের আশায় অনেকে বেশি সার দেন, যা গাছের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে গরমের সময় গাছ অতিরিক্ত পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে না। মাটিতে সারের ঘনত্ব খুব বেড়ে গেলে শিকড় পানি টানতে পারে না, উল্টো শিকড় থেকে পানি বেরিয়ে যেতে পারে; একে বলে সারে পোড়া, আর তাতে পাতা খয়েরি হয়ে মরে যায়। মর্টন আরবোরেটামও মাটিতে সারের উচ্চ ঘনত্বকে পাতা ঝলসানোর কারণ বলেছে এবং মাটি যখন শুকনো, গ্রীষ্মের সেই সময়ে সার না দিতে পরামর্শ দিয়েছে।

ক্লেমসনের নির্দেশিকা বলছে, সার দেওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে মাটি ভেজা, আর সার দেওয়ার পর ভালো করে পানি দিতে হবে। সার পাতার নিচের ভেজা মাটিতে হালকা করে মিশিয়ে দিতে হয়, যেন তা কাণ্ড ছুঁয়ে না যায়। নির্দিষ্ট মাত্রায় ও নিয়ম মেনে সার দিলে পাতায় পোড়া দাগের ঝুঁকি কমে।

ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় সাদুল্লাপুরের গোলাপ গ্রামে গোলাপের খেত। ছবি: ArifHossain.ED / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় সাদুল্লাপুরের গোলাপ গ্রামে গোলাপের খেত। ছবি: ArifHossain.ED / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: SAIDUL HASAN / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটি (আরএইচএস), মর্টন আরবোরেটাম, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এক্সটেনশন, ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি হোম অ্যান্ড গার্ডেন ইনফরমেশন সেন্টার, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফুল

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

শ্রীপুরের বিলের লাল শাপলা শুকিয়ে কেজি ৮০-১০০ টাকা, মৌসুমে পরিবারপ্রতি আয় ৪০-৪৫ হাজার

গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রহ্লাদপুর ইউনিয়নের ডুমনি ও পারুন্নি বিল থেকে বর্ষায় লাল শাপলা তুলে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করছেন ডুমনি গ্রামের শতাধিক দরিদ্র পরিবার।

দিনাজপুর টিভি৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

সেচ ছাড়া শুধু শীতের বৃষ্টির পানিতে চাষ: কোন ফসল টেকে, দেখাল ওরেগনের গবেষণা

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির ড্রাই ফার্মিং প্রোগ্রাম টমেটো, শসা-তরমুজ, সরগাম ও কাটা ফুল পরীক্ষা করছে, যেগুলো গ্রীষ্মে সেচ ছাড়াই মাটিতে জমা শীতের বৃষ্টির পানিতে বাড়ে।

Farms.com৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

শখের ১২০ জাতের ক্যাকটাস থেকে মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা বাড়তি আয়

চাকরির পাশাপাশি গ্রামে ক্যাকটাস ও সাকুলেন্টের সংগ্রহশালা গড়েছেন আলতাফ হোসেন; বাগানে এখন দুই থেকে তিন লাখ টাকার গাছ, সঙ্গে অর্কিডও।

দিনাজপুর টিভি৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)